দীপু হত্যা : লাশ পোড়ানোয় নেতৃত্ব দেওয়া যুবক গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট

ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইওনিয়ার নীটওয়্যার বিডি লিমিটেডের শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস (২৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মো. ইয়াছিন আরাফাত (২৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত মোট ২১ জন গ্রেপ্তার হয়। এর মধ‍্যে ৯ আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।  

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে এই গ্রেপ্তারের সত‍্যতা নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।

এর আগে গতকাল বিকেলে ঢাকা ডিএমপির সহযোগিতায় ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকা থেকে এই আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

​গ্রেপ্তারকৃত ইয়াছিন আরাফাত ভালুকা থানার দক্ষিণ হবিরবাড়ি কড়ইতলা মোড় এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে। দীপু হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি ১২ দিন দেশের বিভিন্ন মাদরাসায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন পাইওনিয়ার ফ্যাক্টরির গেটে স্লোগান দিয়ে লোক জড়ো করার পেছনে মূল ভূমিকা ছিল ইয়াছিনের। উত্তেজিত জনতাকে উসকানি দিয়ে তিনি দীপুকে নির্মমভাবে মারধর করেন। দীপুকে হত্যার পর তার নিথর দেহ রশি দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইয়াছিন আরাফাত ভালুকার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও গত প্রায় ১৮ মাস ধরে তিনি উপজেলার কাশর এলাকায় শেখবাড়ি মসজিদে ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কোরআন মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন। গত ১৮ ডিসেম্বর হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পর তিনি কৌশলে আত্মগোপনে চলে যান। ১২ দিন পলাতক অবস্থায় তিনি ঢাকার ডেমরার বিভিন্ন মাদরাসায় অবস্থান নেন এবং পরিচয় গোপন করে ‘সুফফা মাদরাসা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com