জাবি প্রতিনিধি,
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে কক্সবাজার স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এক ইফতার মাহফিল ও কার্যকরী কমিটি-২০২৬’র পরিচিতি সভার আয়োজন করেছে। রবিবার (২রা মার্চ) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) কনফারেন্স রুমে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কক্সবাজার জেলার শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল কালামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন আয়োজনের আহ্বায়ক আব্বাস সিদ্দিকী রিহাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবাদুল্লাহ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও সিটি ইউনিভার্সিটির প্রভাষক রাশেদুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি রুহান উদ্দীন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আবু উবায়দা উসামা।
ইফতারের পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় নবগঠিত কার্যকরী কমিটির সদস্যদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করা হয়। বক্তারা বলেন, কক্সবাজার জেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সাংগঠনিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সভাপতি তানভীর মোর্শেদ তামীম বলেন, “কক্সবাজার স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন শুধু একটি আঞ্চলিক সংগঠন নয়, এটি আমাদের পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও বন্ধনের প্রতীক। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কক্সবাজারের প্রতিটি শিক্ষার্থী এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একাডেমিক সহায়তা, সাংস্কৃতিক বিকাশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চায় যুক্ত হোক। নতুন কমিটি সকলকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। ঐক্য, সততা ও নিষ্ঠাই হবে আমাদের অগ্রযাত্রার মূল শক্তি।”
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মশালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করে তোলা হবে।
সংগঠনের উপদেষ্টা ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবাদুল্লাহ খান তার বক্তব্যে বলেন, “কক্সবাজার স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পারস্পরিক সহযোগিতা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং মানবিক মূল্যবোধ চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে আসছে। নবগঠিত কার্যকরী কমিটির প্রতি আমার প্রত্যাশা থাকবে—তারা যেন একাডেমিক উৎকর্ষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। একইসঙ্গে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনকে ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখবে।”
সবশেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ, জাতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক মঙ্গল কামনা করা হয়। আন্তরিকতা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।
















Leave a Reply