ময়মনসিংহে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আরও ১৯ শিশু

অনলাইন ডেস্ক

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ২০ শিশু ভর্তি হয়েছেন।

সোমবার (৩১ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত এসব রোগীকে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে মোট ৮৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশি বা সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে, যা জীবনঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ময়মনসিংহে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আরও ১৯ শিশু
ময়মনসিংহে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আরও ৬ শিশু
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৭ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ বেলা ১২টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ১৩১ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট ৮৭ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৫ শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে, তাদের মধ্যে জ্বর ও শ্বাসকষ্টের লক্ষণ ছিল। চলতি মাসের মধ্যবর্তী সময় থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে।

হাম মেডিকেল টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত, হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলেন, পরিস্থিতি সামলাতে ২৪ মার্চ হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করেছে হাসপাতাল প্রশাসন। পরিস্থিতি সামলাতে হাসপাতালের ৮ তলায় পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে। এখানে অক্সিজেন সরবরাহ, নার্স স্টেশন, চিকিৎসকদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের স্বজনেরা জানান, কয়েক দিন ধরে জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি এবং দুর্বলতা দেখা দেওয়ার পর তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

নেত্রকোণা জেলার মদন থেকে আসা এক শিশুর মা আমেনা বেগম বলেন, ‘প্রথমে জ্বর ছিল,পরে সারা শরীরে দানা বের হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এখন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আছে এবং একটু ভালো আছে।’

অপর এক শিশুর বাবা আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘দু-তিন দিন ধরে জ্বর কমছে না। পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে ভর্তি করার পর ডাক্তাররা নিয়মিত দেখছেন।’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম জানান, হাম আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দিনদিন হাম রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাম আক্রান্ত শিশুরা হামের পাশাপাশি জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়। রোগী বাড়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর করা হয়েছে।

ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ফয়সল আহ্‌মেদ বলেন, শিশুদের মাঝে হামে আক্রান্ত হওয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিনই দুই-একজন করে শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি করে আলাদা বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে শিশুদের জন্য ডেডিকেটেড ফিবার ক্লিনিক চালুর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com