আল্লাহর ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর ৪ উপায়

অনলাইন ডেস্ক :

আল্লাহর ওপর ভরসা ও সম্পূর্ণ নির্ভর করাকে তাওয়াক্কুল বলা হয়। তাওয়াক্কুল আরবি শব্দটির অর্থ হলো নিজের বিষয়াবলি অন্যের হাতে সোপর্দ করা। আল্লাহর সুন্দর নামগুলোর একটি হলো আল-ওয়াকীল—সব কিছুর অভিভাবক ও কর্মসাধনকারী। কোরআনে ১৪ বার আল্লাহকে এ নামে ডাকা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে মুমিনদের প্রতি আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি পূর্ব-পশ্চিমের প্রতিপালক। তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তাকেই তোমার অভিভাবক ও কর্মসাধনকারী হিসেবে গ্রহণ করো। (সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত : ৯)।

সৃষ্টির ওপর নির্ভর করতে নিষেধ করেছেন আল্লাহ তায়ালা। হজরত মুসা (আ.)-কে নির্দেশ করে বলা হয়েছে, আমাকে ছাড়া কাউকে অভিভাবক বা কর্মসাধনকারী বানিও না (সুরা বনী ইসরাইল, আয়াত : ২)।

দুটি আয়াতই জানিয়ে দিচ্ছে যে আল্লাহর ওপর ভরসা তাওহিদের সাক্ষ্য বহন করে এবং তা ইবাদতের অংশ।

১. উপায় অবলম্বন করা

অনেকেই মনে করেন, কিছু না করেও শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করলেই সমস্যা দূর হয়ে যাবে। আসলে তাওয়াক্কুল মানে চেষ্টা ছেড়ে দেওয়া নয়। বরং চেষ্টা করতে করতে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।

রিজিকের জন্য পরিশ্রম করা, চাকরির আবেদন করা কিংবা শিক্ষা গ্রহণ—এসব সম্পূর্ণ ইসলামের নির্দেশনার অংশ। যে চেষ্টা করে আল্লাহ তায়ালা তাকেই দেন। এটাই নিয়ম।


এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এক বেদুইন বললেন, ‘আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করে উট ছেড়ে দিয়েছি।’রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি উট বাঁধোসি কেন?’বেদুইন বললেন, ‘ আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেছি।’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘আগে উটটা বেঁধে নাও, তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করো।’ (তিরমিজি)

২. অহংকার করা যাবে না

আল্লাহ আপনার মাঝে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তা ব্যবহার করুন। কখনো গর্ব করবেন না। সফলতা বা সাফল্যের নিয়ন্ত্রণ কোনো মানুষের হাতে নেই; আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া কোনো কাজে সফল হতে পারে না। তাই আল্লাহ যা দিয়েছেন তা নিয়ে গর্ব করবেন না।

৩. আল্লাহর সিদ্ধান্ত মেনে নিন

সাধ্যমতো চেষ্টা করার পর ফলাফলের বিষয়টি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিন। আল্লাহ তার প্রজ্ঞা অনুযায়ী আপনার পরিকল্পনা বদলে দিতে পারেন। ভাগ্যের ভালো মন্দের ওপর বিশ্বাস রাখা ঈমানের ছয়টি রুকনের একটি। তাই যা ঘটে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত এই বিশ্বাস অন্তরকে প্রশান্ত করবে।

৪. সাবধানতা অবলম্বন করুন

কোরআনে ইয়াকুব (আ.)-এর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যখন তিনি তার ছেলেদের মিসরে পাঠান। মানুষের সন্দেহ ও বদ নজর এড়াতে তিনি সন্তানদের বলে দিয়েছিলেন, তারা যেন শহরে ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ করে ও সাবধানতা অবলম্বন করে।

এর মাধ্যমে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, মানুষকে নিজের কাজটুকু করতে হবে, তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে। শুধু নিজের পক্ষ থেকে চেষ্টা করাকে যথেষ্ট মনে করা যাবে না। আবার কিছু না করে শুধু ভরসা রাখা যাবে না।

আল্লাহর ওপর ভরসার উপকারিতা

আল্লাহর ওপর ভরসা মানুষকে অযথা দুশ্চিন্তা, ভয়, উৎকণ্ঠা ও মানসিক চাপ থেকে মুক্ত রাখে। নিজের নিয়ন্ত্রণের ভেতর যা আছে তা করা, আর ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া—এটাই তাওয়াক্কুল বা ভরসার সৌন্দর্য।

একজন বুদ্ধিমান মুমিন নিজের পক্ষ থেকে চেষ্টা ছেড়ে দেন না; আবার কোনো কিছুতে সফল হলে অহংকার করেন না এবং কখনো ব্যর্থ হলে হতাশও হন না। যেকোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর নির্ভরতা তাকে ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ ও শান্ত রাখতে সাহায্য করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *