প্রাথমিক শনাক্তকরণে কমবে হৃদরোগে মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক

প্রাথমিক শনাক্তকরণ, দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে হৃদরোগে মৃত্যু কমানো সম্ভব।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এভারকেয়ার হাসপাতালে ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন।

এ বছর ‘ডোন্ট মিস আ বিট’ প্রতিপাদ্যের সঙ্গে অনুষ্ঠানে হৃদরোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ, দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এবং উন্নত কার্ডিয়াক সেবা নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

পেশেন্ট ফোরামে এ আয়োজনে অংশ নেন এভারকেয়ার হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এ কিউ এম রেজা, সিনিয়র কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. মো. শাহবুদ্দিন তালুকদার, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. শামস মুনওয়ার, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আতিকুর রহমান, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. তামজীদ আহমেদ, এভারকেয়ার হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও কো-অর্ডিনেটর ডা. তাহেরা নাজরীন প্রমুখ।

পেশেন্ট ফোরামে বিভিন্ন রোগী ও তাদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা রোগীদের বিভিন্ন সমস্যা ও রোগ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেন। এ ছাড়া মতবিনিময়কালে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা প্রতিটি হৃদস্পন্দনের গুরুত্ব তুলে ধরে হৃদরোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। সে সময় বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অনিয়মিত স্পন্দনের মতো উপসর্গ অবহেলা না করার পরামর্শ দেন।

তারা বলেন, নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করা গেলে জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। উচ্চ-রক্তচাপ, ডায়াবেটেস, স্থূলতা, ধূমপানসহ বংশগত কারণেও হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন, যেমন সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, ধূমপান বর্জন, পর্যাপ্ত ঘুম ইত্যাদির মাধ্যমে হার্ট সুস্থ রাখা সম্ভব বলে তারা পরামর্শ দেন।
এ ছাড়া মা ও শিশুর হার্টের যত্ন নিয়েও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়। জন্মগত হৃদরোগ পরিকল্পিত গর্ভধারণের ৩ মাস আগে এমএমআর টিকা, ডায়াবেটিস মেলাইটাস নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং গর্ভাবস্থায় টেরাটোজেনিক ওষুধ পরিহারের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

তারা আরো বলেন শিশুর জন্মগত হৃদরোগ ব্যবস্থাপনার জন্য ফিটাল ইকোকার্ডিওগ্রাফি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। তারা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও হৃদরোগ আক্রান্ত শিশুদের ফলোআপ করার ওপরও জোর দেন।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন এভারকেয়ার হসপিটালস বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ডা. রত্নদীপ চাস্কার এবং গ্রুপ মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডা. আরিফ মাহমুদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *