১২ বছর থেকে বন্ধ মানিকপুর জিবিসি প্রাথমিক বিদ্যালয়

এলাকাবাসী জানান, নেত্রকোনার সীমান্ত উপজেলা কলমাকান্দার প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার কোমলমতি শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে জাপান সরকারের অর্থায়নে মানিকপুর এলাকায় জিবিসি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়।
নেত্রকোনা জেলার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দায় লেঙ্গুরা ইউনিয়নের মানিকপুর গ্ৰামে আর্থিক সংকটের কারণে এক যুগ ধরে বন্ধ হয়ে আছে মানিকপুর জিবিসি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানসহ সব কার্যক্রম। বিদ্যালয়ে ক্লাসরুম, পর্যাপ্ত চেয়ার-টেবিল ও বেঞ্চ থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সংকটে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এক যুগ পার হয়ে গেলেও বিদ্যালয়টি পুনরায় চালু করার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে না কেউ। কোমলমতি শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এটি চালুর দাবি এলাকাবাসীর।

এলাকাবাসী জানান, নেত্রকোনার সীমান্ত উপজেলা কলমাকান্দার প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার কোমলমতি শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে জাপান সরকারের অর্থায়নে মানিকপুর এলাকায় জিবিসি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়।
বিদ্যালয়টিতে চারজন শিক্ষক নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে বিদ্যালয়টিতে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান করা হচ্ছিলো। আর বিদ্যালয়টির তদারকি ও আর্থিক সহযোগিতার দায়িত্বে ছিলো জিবিসি নামে খ্রিষ্টানদের একটি সংগঠন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা।

২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে আর্থিক সংকটের কারণে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের শিক্ষা প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বিদ্যালয়টিতে আর্থিক সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়। বন্ধ হয়ে যায় এলাকার শিশুদের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান মানিকপুর জিবিসি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম। উদ্যোগ নেয়নি কেউ এটি পুনরায় চালুর জন্য।

দুই কিলোমিটার দূরে পায়ে হেঁটে এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা গ্ৰহণের জন্য যেতে হচ্ছে প্রতিদিন। এলাকাবাসীর দাবি, পুনরায় বিদ্যালয়টি চালু করে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক শিক্ষা গ্ৰহণের সুযোগ করে দেয়া হোক।

বিদ্যালয়টি সম্পর্কে অনিল হাজং বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ও জিবিসি একত্রে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম সফলতার সঙ্গে পরিচালনা করে আসছিলো। সীমান্তের বেশ কয়েকটি গ্ৰামের দেড় শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতো।

এলাকার প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কে আদিবাসী নেতা বদুয়েল চিসিম বলেন, সীমান্তবর্তী উপজেলা কলমাকান্দায় বিভিন্ন কারণে কয়েকটি বিদ্যালয় হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সাবেক নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাদের সার্বিক সহযোগিতা পেলে বিদ্যালয়টি পুনরায় চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য সচেতন মহলের সহযোগিতা কামনা করছি।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি রমেশ চেব্রা বলেন, এই বিদ্যালয়ের অবস্থা একসময় ভালো ছিলো। ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহযোগিতায় জিবিসির পরিচালনায় সেই সময় ওই বিদ্যালয়টি উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিলো। হঠাৎ আর্থিক সংকটের কারণে বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় ওয়ার্ল্ড ভিশন। এলাকাবাসীর দাবি পুনরায় চালু করা হোক বিদ্যালয়টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *