জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) একাডেমিক সংস্কার, শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) বরাবর ৫ দফা দাবিসমূহ পেশ করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাবি শাখা।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমানের নিকট দাবিগুলো তুলেন ধরনে তারা। এসময় জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে উপ-উপাচার্যের গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। ইতঃপূর্বেও জাতীয় ছাত্রশক্তির পূর্বনাম বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের (বাগছাস) পক্ষ থেকে প্রশাসনের সাথে একাডেমিক সংস্কার বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও গবেষণা পরিবেশ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তাদের পাঁচটি দাবি হলো– প্রথমত, থিসিস শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হবে। তৃতীয়ত, টিউটোরিয়াল ও চূড়ান্ত পরীক্ষাসহ সকল পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, সকল বিভাগে মানোন্নয়ন পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পঞ্চমত, শিক্ষক নিয়োগে ডেমো ক্লাস ও শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাক গ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার সংগঠক বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাদিয়া রহমান অন্বেষা বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিকট জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগে ডেমো ক্লাস এবং শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাক বাধ্যতামূলক করলে পাঠদানের মান স্বাভাবিকভাবেই উন্নত হবে। একইভাবে সকল বিভাগে মানোন্নয়ন পরীক্ষা চালু হলে শিক্ষার্থীরা তাদের শিখন-অর্জনের ঘাটতি পূরণের আরও সুযোগ পাবে। আমরা মানসম্মত শিক্ষা ও একটি সুস্থ একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এসব দাবি উত্থাপন করেছি।”
জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার সিনিয়র সংগঠক বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫০ ব্যাচের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে থিসিস শিক্ষার্থীরা ১৪ হাজার এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ হাজার টাকা গবেষণা প্রণোদনা পায়; অথচ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পায় মাত্র ৭৪০ টাকা। এই বাস্তবতা আমাদের গবেষণাক্ষেত্রে কতটা পিছিয়ে থাকা বুঝিয়ে দেয়। গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে হলে গবেষণা বরাদ্দ বৃদ্ধি, আধুনিক ল্যাব ব্যবস্থা ও একাডেমিক সংস্কার এখন সময়ের দাবি। আমাদের ৫ দফা দাবি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে করা হয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”













Leave a Reply