নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈষম্য বিরোধী সাংবাদিক আন্দোলনসহ রংপুরের বিভিন্ন সাংবাদ মাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের দাবিরমুখে ও অনিয়ম- দুর্নীতির অভিয়োগে রংপুর প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন সমাজেসেবা অধিদপ্তরের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. ময়নুল ইসলাম। তিনি বিকেলে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ফলে তিন দশক পর রংপুরে কর্মরত সকল স্তরের সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত হলো রংপুর প্রেসক্লাবের দরজা। বিষয়টি রংপুরের কর্মরত সকল সাংবাদিক ও পত্রিকার সম্পাদকগণকে সভা করে বিষয়টি অবহিত করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং রংপুর প্রেসক্লাব প্রশাসক মো. ময়নুল ইসলাম ।
এ সময় তিনি বলেন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রেশন আইন অনুসরণ ও প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র করে রংপুর প্রেসক্লাবের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি সাংবাদিকদের স্মরণ করিয়ে দেন রংপুর প্রেসক্লাব সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি রেজিস্ট্রেশনকৃত সংগঠন। তাই নিয়মনীতি অনুসরণ করে এর কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা তা হয়নি। এই অবস্থায় সমাজেসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি তিনি এই দায়ীত্ব¡ গ্রহণ করলেন।
জানাগেছে, রংপুর প্রেসক্লাব ১৯৯১ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করে রেজিস্ট্রেশন সংগঠন হিসেবে নথীভুক্ত হয়। এর পর থেকে প্রেসক্লাবের সদস্য গ্রহণের ক্ষেত্রে বৈষম্য করে আসছিল ক্লাবের নেতৃবৃন্দ। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে রংপুরে বৈষম্য বিরোধী সাংবাদিক আন্দোলনের ব্যানারে এবং রংপুরে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনসহ সাংবাদিকরা আন্দোলন করে আসছিল। এরই ধারা বাহিকতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর একটি উচচ পর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি প্রায় দেড়মাস ধরে তদন্ত কমিটি অনুসন্ধান করে প্রেসক্লাবের আনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ পান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জানুয়ারি সমাজসেবা অধিদপ্তর রেজিস্ট্রিশন আইনের আওতায় প্রেসক্লাবের বিদ্যমান নির্বাহী কিমিটি বরখাস্ত করে আদেশজারি করে। এর পরে সমাজসেবা অদিধপ্তর সর্বশেষ গত ২৯ জানুয়ারি রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. ময়নুল ইসলামকে প্রশাসক নিয়োগ করে প্রসক্লাবের দায়িত্ব গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।
ওই নির্দেশ অনুযায়ী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও রংপুর প্রেসক্লাবের প্রশাসক রংপুরে কর্মরত সকল সাংবাদিক সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকগণসহ প্রেসক্লাবের বরখাস্তকৃত নির্বাহী কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে বিষয়াট আবহিত করার জন্য নোটিশ প্রদান করেন। এই খবর পেয়ে প্রেসক্লাবের বরখাস্তকৃত নির্বাহী কমিটির সদস্যরা প্রেসক্লাব থেকে চলে যান। পরে প্রেসক্লাবে শতাধিক সাংবাদিক, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রংপুরে কর্মরত সাংবাদিকসহ স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকগণের উপস্থিত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ ময়নুল ইসলাম প্রেসক্লাবের প্রশাসক হিসেবে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি এসময় বলেন সংগঠনের গঠনতন্ত্রের যে সব অসংগতি রয়েছে তা প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন বা বিয়োজন করা হবে। এ সময় তিনি ক্লাবের সম্পদের একটি তালিকা প্রস্তত করে ক্লাবের তালা লাগিয়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি একটি রুটিন প্রস্তুত করে ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং এ জন্য তিনি সরকারি কয়েকজন কর্মকর্তাকে তার কাজের সাথে যুক্ত করবেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান।
এ সময় উল্লেখযোগ্য যারা উপস্থিত ছিলেন, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিইউজের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক, সাধারণ সম্পাদক ও রংপুর রিপোর্টাস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নান, সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের সদস্য সচিব লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুব রহমান হাবু, রংপুর সিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মানিক, রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক বাদশাহ ওসমানী, কোষাধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন রংপুরের সভাপতি মমিনুল ইসলাম রিপন, রংপুর প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক দৈনিক দাবানলের সম্পাদক খন্দকার মোস্তফা সরওয়ার অনু,রিপোর্টাস ক্লাব রংপুরের সভাপতি শাহ বায়েজিদ আহাম্মেদ, সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান লুলু,রংপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শরীফা বেগম শিউলী বেগম,বৈষম্য বিরোধী সাংবাদিক পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক এসএম জাকির হোসাইন, রবিন চৌধুরী রাসেল, আশরাফ খান কিরন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর আহবায়ক ইমতিয়াজ আহাম্মেদ ইমতি, মুখপাত্র নাহিদ হাসান খন্দকার সহ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেশ কয়েকজন নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণিপশার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলো। এ ছাড়াও টেলিভিশন ভিডিও জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের নেতা শাহিন আলম, রাকিবুল ইসলাম, সাকিল আহাম্মেদ, আলী হায়দার রনি, সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে নব নিযুক্ত প্রশাসক কয়েকজন নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটকে সঙ্গে নিয়ে প্রেসক্লাব চত্বরে এসে পৌঁছলে শতাধিক গনমাধ্যম কর্মী তাকে স্বাগত জানিয়ে প্রেসক্লাব ভবনে নিয়ে যান।
প্রশাসক নিয়োগ, তিন দশক পর সকল সাংবাদিকের জন্য উন্মুক্ত হলো প্রেসক্লাবের দরজা, গণমাধ্যম কর্মীদের অভিনন্দন













Leave a Reply