সাড়ে ১৮ হাজার শ্রমিকের ৩১১ কোটি টাকা হাতিয়েছে রিক্রুটিং এজেন্সি

অনলাইন ডেস্ক

মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে চুক্তি বহির্ভূত কর্মকাণ্ড করে সরকারের এজেন্ট হিসেবে অবৈধভাবে ১৮ হাজার ৫৬৩ জনের পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থসহ মোট ৩১০ কোটি ৯৩ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে চার রিক্রুটিং এজেন্সির পাঁচ মালিকের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বিষয়টি জানিয়েছেন।

প্রথম মামলার আসামিরা হলেন– সেলিব্রেটি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফরিদা বানু, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল হাই। ওই মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বায়রার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকালে সিন্ডিকেট করে বিএমইটি ও বায়রার রেজিস্ট্রেশনের শর্ত ভঙ্গ করে মালয়েশিয়া পাঠাতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করেছে। চুক্তি বহির্ভূত কর্মকাণ্ড করে সরকারের এজেন্ট হিসেবে অবৈধ পারিতোষিক গ্রহণ করে ৩ হাজার ৪৮৬ জনকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নামে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতি কর্মীর কাছ থেকে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থসহ মোট ৫৮ কোটি ৩৯ লাখ ৫ হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

একই প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় মামলায় ৩ হাজার ৮৫২ জন মালয়েশিয়ায় প্রেরিত কর্মীর কাছ থেকে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থসহ ৬৪ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় অদিতী ইন্টারন্যাশনালের মালিক বিশ্বজিৎ সাহাকে আসামি করা হয়েছে। যেখানে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করে দণ্ডবিধির ১২০(বি)/১৬১/১৬২/১৬৩/১৬৪/১৬৫(ক)/৪২০/৪০৯ ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তৃতীয় মামলার আসামি হলেন– রাব্বি ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোহাম্মদ বশির। তার বিরুদ্ধেও সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নামে ৩ হাজার ১৪৮ জন শ্রমিকের কাছ থেকে চুক্তি বহির্ভূত কর্মকাণ্ড করে বিভিন্ন ফি বাবদ ৫২ কোটি ৭২ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অন্যদিকে, চতুর্থ মামলায় মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের মালিক হেফজুল বারীকে আসামি করা হয়েছে। একই প্রক্রিয়ায় আসামি চুক্তি বহির্ভূত কর্মকাণ্ড করে সরকারের এজেন্ট হিসেবে অবৈধ পারিতোষিক গ্রহণ করে ৮ হাজার ৭৭ জন মালয়েশিয়ায় পাঠানো কর্মীর কাছ থেকে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থসহ ১৩৫ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণপূর্বক আত্মসাৎ করেছেন। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আসামিরা এমন অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *