নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তহীনতা ও ব্যক্তিগত সেচপাম্প মালিকের দৌড়াত্যে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে কৃষকের সেচ সুবিধা। সেই সাথে এলজিইডির কর্মকর্তাদের চিঠি চালাচালিতে চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় পঞ্চাশ একর জমি অনাবাদি থাকার শংকা দেখা দিয়েছে।
কৃষকেরা অভিযোগ করে বলেন, রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার বড়বিল ঠাকুরদহ গ্রামে বিএডিসি ও বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সেচ সুবিধা থাকলেও তারা দীর্ঘ দিন থেকে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ফলে তাদেরকে সেচ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে শতক প্রতি একশত টাকা দরে পনি কিনে চাষাবাদ করতে হতো। এতে করে তাদের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেতো।
বাড়তি খরচের হাত থেকে বাঁচতে সেখানকার কৃষকেরা বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সেচ সুবিধা চেয়ে আবেদন করলে সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কৃষি জমিগুলোকে সেচ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসে।
এর পর সেখান ব্যক্তিমালিকানাধীন সেচ ব্যবসায়ীরা বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত লিপ্ত হতে থাকে। এর এক পর্যায়ে তারা সম্প্রসারিত সেচ প্রকল্পের সেচ নালা ভাংচুরসহ দুটি রাইজার চুরি করে নিয়ে যায়। পরে আইন বর্হিভুত ভাবে স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডি) পাকা সড়ক খনন ও বোরিং করে সরকারী গভীর নলকূপের পাইপ স্থাপন করা হয়েছে মর্মে গংগাচড়া উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন।
অপরদিকে বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কৃষি জমিতে সেচ সরবরাহের জন্য গত ২৭ জানুয়ারী গংগাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ভূগর্ভস্থ পাইপ লাইন রাস্তা পারাপার পূর্বক সংযোগ প্রদানের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। এরপর গংগাচড়া উপজেলার এলজিইডির প্রকৌশলী গত ৩০ জানুয়ারী সেচকার্য সম্প্রসারিত করার জন্য তাদের পাকা সড়ক রাস্তা দিয়ে বোরিং করে সরকারী গভীর নলকূপের পাইপ স্থাপনে তাদের কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি মর্মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
বড়বিল ঠাকুরদহ গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন জানান, আমারা দীর্ঘ বছর থেকে সরকারী সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আমাদেরকে স্থানীয় সেচ ব্যবসায়ীদের কাজ থেকে শতক প্রতি একশত টাকা করে পানি কিনে জমি চাষ করতে হতো। এখন শতক প্রতি চল্লিশ টাকায় বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সেচ সুবিধা পাওয়ায় আমাদের উৎপাদন খরচ কমে গেছে।
কৃষক মোত্তাকিন জানান, আমরা যাতে সরকারী সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকি এইটাই চান সেচ ব্যবসায়ীরা। তারা হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে আমাদের সরকারী সেচ সুবিধা বাধাগ্রস্থ করছে।
উপকারভোগী কৃষক মোজাম্মেল হোসেন জানান, আমরা সাত একর জমির মালিক সেচের জন্য আবেদন করলেও এখানকার ৫০ একর জমির মালিক সেচ সুবিধার আওতায় এসেছেন। তবে সেচ নালার আউটলেট ভেঙ্গে ফেলা ও রাইজার দুটি চুরি হয়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এব্যাপারে থানায় অভিযোগ করার পর বিষটি নিস্পত্তি হলেও আউটলেট নির্মাণ ও রাইজার স্থাপনে এখনও বাধা দিচ্ছে স্থানীয় সেচ ব্যবসায়ীরা।
এব্যাপারে বিএডিসি (সেচ) গংগাচড়া উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী রুবেল ইসলাম জানান, কৃষকেরা সরকারী যেকোন প্রতিষ্টান থেকে সুলভমূল্যে সেচ সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিএডিসির কোন সেচ স্কিম নেই।
রংপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মুসা জানান, তারা সড়কের তলদেশ দিয়ে সেচ পাইপ লাইন সম্প্রসারণ করলে আমাদের অবগত করা প্রয়োজন ছিলো। কিন্ত তারা আমাদের কোন অনুমতি নেননি। তবে পাইপ লাইন সম্প্রসারণ করলেও সড়কের কোন ক্ষতি হয়নি বলে জানান তিনি।
রংপুর বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম মশিউর রহমান জানান. সেখানকার কিছু জমিতে সেচ সুবিধা না থাকা এবং ইতিপূর্বে কাচা নালায় গভীরনলকূপের সেচ সুবিধা গ্রহণ করলেও বর্তমানে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেচ বঞ্চিত হয়ে পড়ে কৃষকেরা। তাদের স্বল্প খরচে সেচ সুবিধা প্রদানের জন্য চারশত মিটার সেচ নালা বৃদ্ধি করা হয়। সড়কের নীচ দিয়ে পাইপ লাইন পারাপারের জন্য সড়কের কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় এবং চলতি বোন মৌসুমি সেচ প্রদানে কৃষকের চাহিদার কারণে দ্রুত সেচ নালা নির্মাণ করা হয়েছে। কৃষকরা কম খরচে যেখান থেকে সুবিধা পাবে সেখান থেকে সেচ গ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত বলে জানান তিনি।
গংগাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, আমাকে গংগাচড়া এলজিইডির প্রকেীশলী যে চিঠিটা দিয়েছিলো সেই চিঠিটা আমি ফরোয়ার্ড করে জেলা প্রশাসক মহাদয়কে দিয়েছি ।
স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তহীনতা ও ব্যক্তিগত সেচপাম্প মালিকের দৌড়াত্যে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে কৃষকের সেচ সুবিধা













Leave a Reply