যে দান বাড়তে বাড়তে পাহাড়সম হয়ে যায়

অনলাইন ডেস্ক :

দান করা মুসলিম জীবনের সবচেয়ে পূণ্যময়কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি কাজ। ব্যক্তির দান যতোই ক্ষুদ্র হোক, যদি তা হয় হালাল রোজগার থেকে এবং নিঃস্বার্থ মনে, তাহলে মহান আল্লাহ তাতে বিরাট বরকত দান করেন। সেই দান কোনো এক সময় ব্যক্তির জন্য অনেক বড় হয়ে ফিরে আসে। এই সত্যটিই নিচের হাদিসে অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ভঙ্গিতে বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ تَصَدَّقَ بِعَدْلِ تَمْرَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ وَلاَ يَقْبَلُ اللهُ إِلاَّ الطَّيِّبَ وَإِنَّ اللهَ يَتَقَبَّلُهَا بِيَمِينِهِ ثُمَّ يُرَبِّيهَا لِصَاحِبِهِ كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ حَتَّى تَكُونَ مِثْلَ الْجَبَلِ

আবূ হুরাইরাহ্ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি হালাল কামাই থেকে একটি খেজুর পরিমাণ সাদাকা করবে, (আল্লাহ তা কবুল করবেন) এবং আল্লাহ কেবল পবিত্র মাল কবুল করেন আর আল্লাহ তাঁর ডান হাত দিয়ে তা কবুল করেন।

এরপর আল্লাহ দাতার কল্যাণার্থে তা প্রতিপালন করেন যেমন তোমাদের কেউ অশ্ব শাবক প্রতিপালন করে থাকে, অবশেষে সেই সাদাকা পাহাড় বরাবর হয়ে যায়। (বুখারি, হাদিস : ১৪১০)
হাদিস হতে শিক্ষণীয় বিষয়

১. সকল প্রকারের ইবাদত উপাসনার মতোই নিষ্ঠাবান হয়ে যে কোনো দান প্রদানের প্রধান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য স্থির করতে হবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ। তাতে যেন কুপ্রবৃত্তির কোনো প্রকার প্রভাব না থাকে তার খেয়াল রাখা অপরিহার্য।

২. মুসলিম ব্যক্তির উচিত যে, সে যেন অবৈধ ও হারাম মাল উপার্জন করা হতে নিজেকে রক্ষা করে।

কেননা অবৈধ ও হারাম মাল উপার্জন করার মাধ্যমে উপস্থিত হয় মহান আল্লাহর ক্রোধানল এবং মানুষের মানসিক মহারোগ। যেমন মনের মধ্যে প্রবল লোভ বিরাজ করা, কোনো জিনিসকে পাওয়ার জন্য অন্তরে তীব্র বাসনা সৃষ্টি হওয়া, আত্যন্তিক আত্মম্ভরিতা, স্বার্থপরতা, অতৃপ্ত ও বাসনা অপূর্ণ থাকায় অশান্ত হওয়া, কৃপণতা, কষ্ট, অস্বস্তি এবং অশান্তির অনুভূতি সৃষ্টি হওয়া।
৩. এই হাদিসটির মধ্যে মহান আল্লাহর পবিত্র ডান হাতের কথা উল্লিখিত হয়েছে; কেননা ডান হাতের দ্বারাই কল্যাণময় জিনিস সাধারণ ভাবে গ্রহণ করা হয়। পবিত্র কোরআন এবং নির্ভরযোগ্য হাদিসের আলোকে মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলির প্রতি সঠিক ভাবে অন্তরে ঈমান স্থাপন করা অপরিহার্য।

এবং তাতে কোনো প্রকার বিকৃত, পরিবর্তন, পরিবর্ধন, অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান, সাদৃশ্য বর্ণনা বা দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এবং স্বরূপ নির্ধারণ করা চলবে না।
পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ও হাদিস থেকে জানা যায়, আল্লাহর হাত আছে, পা আছে। কিন্তু এই হাত পা কেমন সে সম্পর্কে আমরা কোনো ধারণাও করতে পারি না চিন্তাও করতে পারি না। সৃষ্টিজগতে তাঁর কোনো তুলনা নেই। কেননা আল্লাহ তাআলা নিজের সম্পর্কে বলেছেন, {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, তিনি সবকিছু শুনেন ও দেখেন।

(সুরা শুরা, আয়াত : ১১)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *