নিজস্ব প্রতিবেদক:
সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের দেয়া রায় মানছেনা রংপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। এক বছরেরও বেশী সময় ধরে করপোরেশনের কর্মকর্তাদের টেবিলে টেবিলে ঘুরছেন সেখানকার বাজার শাখার প্রধান অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ফরিদ উদ্দিন আহাম্মেদ। লিখিত আবেদন করে পেনশন গ্রাচুয়িটি সহ অন্যান্য বকেয়া টাকা প্রদানের জন্য উচ্চ আদালতের আদেশের পত্র দিলেও কর্মকর্তারা সেটা আমলে আনছেন না।পাওনা টাকা না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ফরিদ উদ্দিন।
ফরিদ উদ্দিন আহাম্মেদ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রংপুর সিটি করপোরেশনে বাজার শাখার প্রধান পদে চাকুরী করে ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চাকুরী থেকে অবসর গ্রহন করেন। অবসর গ্রহনের পর তার প্রাপ্য পেনশন , গ্রাচুয়িটি সহ প্রায় ২৪ লাখ টাকা পরিশোধ করার জন্য লিখিত আবেদন করেন। কিন্ত দীর্ঘদিন ধরে পাওনা অর্থ প্রদান করছেন না সিটি করপোরেশন কর্তপক্ষ।
পাওনা টাকা না পাওয়ায় হাইকোর্টে রীট পিটিশন দায়ের করেন। যার রিট পিটিশন নম্বর ১৩২০৪/২১ইং। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি জেড রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী এবাদত হোসেন ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর সিটি করপোরেশনের কর্মচারী ফরিদ উদ্দিনকে রায় ঘোষনার দুই মাসের মধ্যে তার সমুদয় পাওনা পরিশোধ করার নির্দেশ প্রদান করে রায় দেন।
হাইকোর্ট বিভাগের দুই বিচারপতির রায়ের পর ফরিদ উদ্দিনের পাওনা পরিশোধ না করে রংপুর সিটি করপোরেশনে তৎকালিন মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে আপীল করেন।
আপীল বিভাগের বিচারপতি এনায়েতুর রহীম ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারী শুনানী শেষে সিটি করপোরেশনের আপীল আবেদন কোন আদেশ প্রদান করা হলোনা মর্মে আদেশ দিয়ে আপীল আবেদন খারিজ করে দেন। যার পিটিশন নম্বর ১১৬৬/২৩ইং।
আপীল বিভাগের আদেশ প্রদানের পর আদেশ নামার কপি নিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে আবারো আবেদন করেন ফরিদ উদ্দিন। কিন্তু সুপ্রীম কোর্টের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখন পর্যন্ত তার পাওনা প্রদান করা হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে রংপুর সিটি করপোরেশনের সচিব জয়শ্রী রানী রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে ।













Leave a Reply