ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে পাটচাষে আবার কৃষকদের আগ্রহের প্রেক্ষিতে পাট ও পাটবীজ চাষে কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত রাখার দাবি করেছেন পাটবীজ প্রশিক্ষণার্থীরা। সোনালি আঁশের দেশ বাংলাদেশ। অথচ এ দেশে উৎপাদিত পাটের সিংহভাগ পাটবীজ আনতে হয় পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে। প্রায়ই তার মধ্যে খারাপ মানের বীজ থাকে বলে চাষিদের লোকসান গুণতে দেখা যায়। তাই উন্নতমানের পাটবীজ উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১০০ পাটবীজ উৎপাদনকারী কৃষকদের নিয়ে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষি প্রশিক্ষণ-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়।
যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে সদর উপজেলা প্রশাসন ও ঠাকুরগাঁও পাট অধিদপ্তর।
পাট অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ” :: (২য় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মঙ্গলবার সদর উপজেলা হলরুমে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে প্রধান প্রশিক্ষক ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সৈয়দ ফারুক আহম্মদ, ঠাকুরগাঁও সদর ইউএনও খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় প্রশিক্ষক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা শামীমা নাজনীন, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসিরুল ইসলাম রনি, পাট অধিদপ্তর দিনাজপুরের কর্মকর্তা অসীম কুমার মালাকার, জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার মালাকার প্রমুখ।
প্রশিক্ষণ শেষে নির্বাচিত কৃষকের মধ্যে পাটের তৈরি ব্যাগ ও সনদ বিতরণ করেন অতিথিরা।
প্রশিক্ষণে ঠাকুরগাঁওয়ে আবার পাটচাষে কৃষকের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের কথা তুলে ধরে প্রশিক্ষকরা বলেন, পাট একটি অর্থকারী ফসল, পাটের অবদান অনেক। এ জেলায় যেহেতু প্রাকৃতিক পানির উৎস কম তাই পাট জাক দেয়া ধোয়া বিশেষ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আঁশের জন্য নয় বীজের জন্য পাট মন্ত্রণালয়ের উৎপাদন এ জেলার জন্য বিশেষ উপযোগী। এটা পরিবেশ সম্মত তাই এর ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। পলিথিনের বদলে আমাদের দেশে পাটের ব্যবহার বাড়াতে হবে। পাট পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পাটের আবাদ বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়া হয় প্রশিক্ষণে। এ সময় পাট চাষীরা পাটবীজ ও পাট উৎপাদনে সরকারি উৎসাহ, প্রণোদনা, প্রশিক্ষণের এই সরকারি উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দাবী জানান। এছাড়া পাট ভেজানোর আধুনিক প্রযুক্তি এবং তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়েও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।













Leave a Reply