২০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ভারতীয় নারীকে পাওয়া গেল বাংলাদেশে

অনলাইন ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গাসাগর মেলায় এসে ২০ বছর আগে হারিয়ে যান মধ্যপ্রদেশের নারী রাধিকা। মেলায় হারিয়ে যাওয়া ওই নারীকে পাওয়া গেছে বাংলাদেশে। তাকে ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে মিলিত করার চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের রেডিও অপারেটররা এ নারীকে খুঁজে বের করেছেন। নিজেদের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারা হারিয়ে যাওয়া মানুষকে খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সেক্রেটারি আম্বারিস নাগ বিশ্বাস বলেছেন, “বাংলাদেশে থাকা আমাদের সূত্র আমাদের জানায় রাধিকা নামে ৭০ বছর বয়সী এক নারীকে রাস্তায় ভিক্ষা করা অবস্থায় পাওয়া গেছে। যখন তাকে স্বামীর নাম জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কোনো উত্তর দেননি। তার বলা একমাত্র বাক্য ছিল সাগর। তখন আমরা পশ্চিমবঙ্গের সর্বদক্ষিণের সাগরদ্বীপে খোঁজ নেই, সেখান থেকে কোনো নারী হারিয়ে গেছেন কি না। কিন্তু আমরা নিশ্চিত হই, তিনি সাগরদ্বীপের বাসিন্দা নন। এরপর আমরা আরও খোঁজ নেওয়া শুরু করি।”

সংস্থাটির রেডিও অপারেটররা এরপর ভারতে সাগর নামে যত জায়গা আছে সব জায়গায় খোঁজ নেওয়া শুরু করেন। এরপর মধ্যপ্রদেশের সাগর বিভাগে খাজরা নামে একটি গ্রামের সন্ধান পান তারা। সেখানকার এক নারী গঙ্গাসাগর মেলায় গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিলেন।

সেক্রেটারি আম্বারিস নাগ বিশ্বাস বলেছেন, “তীর্থযাত্রীদের একটি দলের সঙ্গে রাধিকা গঙ্গাসাগর মেলায় গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ওই দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। যে কোনোভাবে তিনি বাংলাদেশি একটি দলের সঙ্গে যুক্ত হন। তখন বাংলাদেশি তীর্থযাত্রীরা ট্রলারে সহজেই সাগরদ্বীপে যেতে পারতেন। রাধিকা ওই বাংলাদেশি দলের সঙ্গেই একটি ট্রলারে চেপে বসেন। বাংলাদেশে এসে অসহায় হয়ে পড়ায় ভিক্ষা শুরু করেন তিনি।”

মধ্যপ্রদেশে রাধিকার স্বামী ও তিন ছেলে ছিল। তার স্বামী বালিরাম এবং পুরান নামে এক ছেলে ইতিমধ্যে মারা গেছে। তার বাকি দুই ছেলে রাজেশ এবং গণেশ এখন দিল্লিতে থাকেন এবং সেখানেই কাজ করেন।

নাগ বিশ্বাস বলেন, “আমরা যখন রাধিকার ছবি পাই। তখন তার আগের চেহারার সঙ্গে খুব বেশি মিল দেখিনি। তিনি শুধু বৃদ্ধাই হননি, রাস্তায় থাকায় তার পুরো শরীরা ময়লা ও কাদায় মেখে গিয়েছিল। আমরা তাকে একটি পার্লারে নেওয়ার ব্যবস্থা করি। সেখানে তাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। এরপর ছবি দেখালে মাকে তাৎক্ষণিকভাবে চিনতে পারেন রাজেশ।”

২০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মায়ের সন্ধান পাওয়া রাজেশ, তার ভাই ও গ্রামবাসী সবাই বেশ অবাক সঙ্গে খুশি হয়েছেন।

এদিকে এ নারীর বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও জানানো হয়েছে। তারা সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে খুব শিগগিরই এ নারী তার নিজ দেশ ও পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *