অনলাইন ডেস্ক :
তীব্র সৌর বিকিরণে ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটার ব্যাহত হতে পারে এমন সতর্কতা জারি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে হাজারো এয়ারবাস কম্পানির বিমানের উড্ডয়ন বন্ধ ছিল। দ্রুত সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে আবারও স্বাভাবিক পরিষেবায় ফিরতে শুরু করেছে বিমানগুলো।
ফ্রান্সভিত্তিক বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস জানিয়েছে, তাদের প্রায় ৬ হাজার এ-৩২০ সিরিজের বিমান এই সমস্যায় পড়েছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগই দ্রুত সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।
তবে প্রায় ৯০০ পুরনো বিমানে কম্পিউটার বদলাতে হবে।
ফ্রান্সের পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারো জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ৫ হাজারের বেশি বিমানে আপডেট খুব সহজেই সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, এয়ারবাস জানিয়েছে এখনো ‘১০০টির কম বিমান’ আপডেট করা বাকি।
তিনি আরো জানান, ‘গতরাতেই প্রায় সব ডিভাইসে সফটওয়্যার আপডেট দেওয়া হয়েছে।
প্যারিসের শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে শনিবার সকালে এয়ার ফ্রান্সের কয়েকটি ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিল হয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ফ্রান্সে প্রভাব তুলনামূলক কম। কারণ সেখানে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের সময়ে, যা বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুমগুলোর একটি।
আমেরিকান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তাদের ৩৪০টি বিমান এতে আক্রান্ত হয়েছে।
ডেল্টা এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তাদের ফ্লাইট কার্যক্রমে প্রভাব ‘সীমিত’ থাকবে।
এদিকে, লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর কিছুটা বিঘ্নের কথা জানালেও হিথ্রো কোনো বাতিল ফ্লাইটের খবর দেয়নি। ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরও উল্লেখযোগ্য সমস্যার আশঙ্কা নেই। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং এয়ার ইন্ডিয়াও বড় ধরনের ঝামেলার মুখে পড়েনি।
ইজি জেট বলেছে, তাদের বেশিরভাগ বিমানেই আপডেট সম্পন্ন হয়েছে এবং সব কিছু স্বাভাবিকভাবে চলবে।
উইজ এয়ার-ও আপডেটের পর স্বাভাবিক অপারেশন চালাচ্ছে।
তবে অস্ট্রেলিয়ার বাজেট এয়ারলাইন জেটস্টারের বহরের এক-তৃতীয়াংশ বিমান প্রভাবিত হওয়ায় ৯০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে।
এর আগে, মূল সমস্যাটি ধরা পড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে উড়তে থাকা একটি জেটব্লু বিমানে। অক্টোবর মাসে সেটি আচমকা উচ্চতা হারিয়ে জরুরি অবতরণ করে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন।
পরবর্তীতে এয়ারবাস চিহ্নিত করে যে, বিমানের যে সফটওয়্যার উচ্চতা নির্ণয় করে, তা উচ্চ আকাশে সূর্যের তীব্র বিকিরণে তার কার্যক্রম বিঘ্নিত হতে পারে। এতে ভুল ডেটা তৈরি হয় এবং ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেমে গোলমাল হতে পারে।
এই সমস্যায় শুধু এ-৩২০ নয়, এ-৩১৮, এ-৩১৯ এবং এ-৩২১ মডেলগুলোর বিমানও পড়েছে।
প্রায় ৫,১০০টি বিমান কেবল সফটওয়্যার আপডেটেই সমস্যামুক্ত হয়েছে। তবে ৯০০ পুরনো বিমানে হার্ডওয়্যার বদলানো ছাড়া উপায় নেই। এসব বিমান সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত উড়ানো যাবে না।
কত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে তা নির্ভর করছে প্রতিস্থাপনযোগ্য কম্পিউটার কত দ্রুত পাওয়া যায় তার ওপর।













Leave a Reply