মহাঅষ্টমীতে কুমারী পূজা আজ

অনলাইন ডেস্ক

মহাঅষ্টমীর মূল আকর্ষণ হলো কুমারী পূজা। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে প্রতি বছরই আড়ম্বরপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে কুমারী পূজা উদযাপন করেন হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বী।

রামকৃষ্ণ মিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা ১১টায় এ বছরের কুমারী পূজা হবে এবং শেষ হবে দুপুর ১টায়।
এর আগে, মহাঅষ্টমী পূজা শুরু হয় সকাল ৬টা ১০ মিনিটে। আজ পুষ্পাঞ্জলি হবে সকাল সাড়ে ১০টায় এবং মধ্যাহ্ন প্রসাদ দুপুর ১২টায়। আর মহাঅষ্টমী উপলক্ষে সন্ধিপূজা হবে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে এবং সমাপন সন্ধ্যা ৭টা ১ মিনিটে।
কুমারী পূজার ইতিহাস ও পটভূমি

শাস্ত্রমতে কুমারী পূজার উদ্ভব হয় বানাসুর বা কোলাসুরকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে। উল্লেখ্য, কোলাসুর নামক অসুর এক সময় স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করে নেয়। কোলাসুর স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করায় বাকি বিপন্ন দেবগণ মহাকালীর শরণাপন্ন হোন। সে সকল দেবগণের আবেদনে সাড়া দিয়ে দেবী দেবতাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে দেবী মানবকন্যারূপে জন্মগ্রহণ করেন কুমারী অবস্থায় কোলাসুরকে হত্যা করেন। পুনর্জন্মে কুমারীরূপে কোলাসুরকে বধ করেন। এরপর থেকেই মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়। প্রতি বছর দুর্গাদেবীর মহাঅষ্টমী পূজাশেষে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

কুমারী পূজায় কোন ধরনের কুমারীর পূজা করা যাবে?
পুরোহিতদর্পণ প্রভৃতি ধর্মীয় গ্রন্থে কুমারী পূজার পদ্ধতি এবং মাহাত্ম্য বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনানুসারে কুমারী পূজায় কোনও জাতি, ধর্ম বা বর্ণভেদ নেই। দেবীজ্ঞানে যেকোনো কুমারীই পূজনীয়। তবে সাধারণত ব্রাহ্মণ কুমারী কন্যার পূজাই সর্বত্র প্রচলিত। এ ক্ষেত্রে এক থেকে ১৬ বছর বয়সী যেকোনো কুমারী মেয়ের পূজা করা যায়। অনেকের মতে ২ বছর থেকে ১০ বছরের মেয়েদের পূজা করা যায়।

বয়সের ক্রমানুসারে পূজাকালে কুমারীদের বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়

বয়সের ক্রমানুসারে পূজাকালে কুমারীদের বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়। যেমন এক বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘সন্ধ্যা’, দুই বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘সরস্বতী’, তিন বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘ত্রিধামূর্তি’, চার বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘কালীকা’, পাঁচ বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘সুভগা’, ছয় বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘উমা’, সাত বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘মালিনী’, আট বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘কুব্জিকা’, নয় বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘কালসন্দর্ভা’, দশ বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘অপরাজিতা’, এগারো বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘রূদ্রাণী’, বারো বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘ভৈরবী’, তেরো বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘মহালক্ষ্মী’, চৌদ্দ বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘পীঠনায়িকা’, পনেরো বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘ক্ষেত্রজ্ঞা’, ষোলো বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘অন্নদা বা অম্বিকা’।

শ্রীরামকৃষ্ণের মতে- সব স্ত্রীলোক ভগবতীর এক একটি রূপ। শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর বেশি প্রকাশ। দুর্গাপূজার অষ্টমী বা নবমীতে সাধারণ ৫ থেকে ৭ বছরের একটি কুমারীকে প্রতিমার পাশে বসিয়ে পূজা করা হয়। চণ্ডীতে বলা হয়েছে- ‘যা দেবী সর্বভূতেষু; মাতৃরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্য মধ্যে মায়ের রূপ’।

এদিকে সোমবার রাজধানীসহ সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মহাসপ্তমী উদযাপিত হয়েছে। দুর্গাভক্তরা দেবীর আরাধনায় পূজামণ্ডপগুলোতে দিনভর ভিড় জমিয়েছেন।

এর আগে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। আগামী ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারাদেশে ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপ ও মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীর ২৫৮টি মণ্ডপ ও মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য রাজধানীসহ সারাদেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *