সিরাজগঞ্জে মহাসড়কে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৭

অনলাইন ডেস্ক

সিরাজগঞ্জে মহাসড়কে গভীর রাতে প্রাইভেটকার থামিয়ে ডাকাতির সেই আলোচিত ঘটনার ছয়দিনের মধ্যে র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানে এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া লুণ্ঠিত নগদ টাকা, মোবাইল ও রামদা উদ্ধার হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৩), একই গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে রাশেদুল ইসলাম (২৩), খামার পাইকশা গ্রামের শাহজাহান আলী বুদ্দুর ছেলে আইয়ুব আলী (২৩), একই গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে আজাদুল মেম্বার (৩৭), খামার পাইকুশা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৩), সদর উপজেলার পূর্বমোহনপুর গ্রামের শহিদুল সেখের ছেলে শাহা আলী (২৯) ও মোহনপুর গ্রামের রহম আলীর ছেলে মো. বাবু (৩৪)।

জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর গভীর রাতে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে ঝাঐল ওভারব্রিজ এলাকায় প্রাইভেট কার থামিয়ে ডাকাতির ঘটনার ঘটে। এতে নারীসহ ৫ জন আহত হন। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ১৪/১৫ জনের একটি ডাকাত দল প্রাইভেট কারটি ভাঙচুর এবং যাত্রীদের মারধর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশব্যাপী আলোচিত হয়।

এ ঘটনায় ৫ অক্টোবর যমুনা সেতু থানায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রথমে যমুনা সেতু থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান তদন্ত শুরু করেন। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে ডিবির এসআই নাজমুল হককে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া র‌্যাব-১২’র পক্ষ থেকে মামলাটির ছায়াতদন্ত শুরু হয়।

এ অবস্থায় গত সোমবার র‌্যাব সদস্যরা মো. বাবু, শাহা আলী ও মঙ্গলবার মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করেম। আর ডিবি পুলিশ বুধবার অভিযান চালিয়ে মোবাইলের ক্রেতা আশরাফুল ইসলাম, ডাকাত রাশেদুল ইসলাম, আইয়ুব আলী ও আজাদুল মেম্বারকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই নাজমুল হক বলেন, ‘ডিবির অভিযানে ৪ জনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ২২ হাজার ৫০০ টাকা, ৩টি মোবাইল ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তারদের মধ্যে মোবাইলের ক্রেতা আশরাফুল ইসলাম ও ডাকাত রাশেদুল ইসলাম এবং র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ডাকাত মোহাম্মদ আলীকে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তাররা পেশাদার ডাকাত। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বাকি আসামিদের চেষ্টা চলছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *