অনলাইন ডেস্ক
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে নগরী জুড়ে। মাঠ পর্যায়ে ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ), সাইবার ইউনিট, ট্র্যাফিক বিভাগ, বোমা ডিসপোজাল ইউনিটসহ একাধিক শাখা সক্রিয় রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় মহাষ্টমীর দিন নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিন পর্যবেক্ষণকালে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ধর্মীয় উৎসব শুধু একটি সম্প্রদায়ের নয়, এটি সবার। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। এই সম্প্রীতির ঐতিহ্যই আমাদের শক্তি। তাই সবার সহযোগিতায় পূজা যেন আনন্দময় ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
আরএমপি কমিশনার বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত পুলিশ, আনসার ও প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা যেন কোনো ধরনের শঙ্কা ছাড়াই পূজা উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতায় দায়িত্ব পালন করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আরএমপির সাড়ে ৯০০ পুলিশ সদস্য নগরীর ১০২ টি মণ্ডপের নিরাপত্তায় দিনরাত কাজ করছে। পাশাপাশি সিকিউরিটি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে মণ্ডপগুলো।
রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কঠোর নজরদারি করছে। আমরা চাই, এই উৎসব আনন্দমুখর পরিবেশেই শেষ হোক। ধর্মীয় সম্প্রীতি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য—এটিকে অটুট রাখতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। গুজব ছড়িয়ে কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট না করতে পারে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রতিমা বিসর্জন প্রসঙ্গে কমিশনার আবু সুফিয়ান জানান, রাজশাহীর তিনটি ঘাট—আইবাঁধ, মুন্নুজান ও পুলিশ লাইন ঘাটে আলাদা ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে।
এসব স্থানে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা থাকায় দর্শনার্থীদের কোনো ভোগান্তি হবে না। ভিড় সামলাতে ও যানজট এড়াতে বিসর্জনের দিন বিশেষ ট্র্যাফিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আরএমপি কমিশনার জানান, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি চলছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে আরএমপি একটি বিশেষ হটলাইন চালু করেছে, যেখানে ফোন করলেই তাৎক্ষণিক পুলিশি সহায়তা পাওয়া যাবে। প্রতিদিন নিয়মিত ব্রিফিং প্যারেড ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভার মাধ্যমে সামগ্রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. গাজিউর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মীর মো. শাফিন মাহমুদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিহার) মো. মমিনুল করিমসহ রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
















Leave a Reply