পাকিস্তানের নজরে কলকাতা, পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

অনলাইন ডেস্ক

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। দিল্লির উস্কানির জবাবে প্রয়োজনে কলকাতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৪ এপ্রিল) শিয়ালকোটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় খাজা আসিফ মন্তব্যটি করেন।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ভারত একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযান চালানোর চেষ্টা করতে পারে। তারা যদি এবার এমন কোনো অভিযান চালানোর চেষ্টা করে, এবার সংঘাত ২০০ থেকে ২৫০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা তা কলকাতা পর্যন্ত নিয়ে যাব।

তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করবো এবং তাদের নিজেদের ঘরের ভিতরেই আঘাত করব। সন্ত্রাসবাদের ভুয়ো অভিযোগ তুলে পাকিস্তানকে দোষারোপ করতে পারে ভারত।

তিনি আরও দাবি করেন, ভারত তাদের নিজস্ব নাগরিকদের অথবা হেফাজতে থাকা পাকিস্তানি কয়েদিদের হত্যা করে জঙ্গি হামলার নাটক সাজাতে পারে। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে আসিফ একে ভারতের ‘হতাশার প্রতিফলন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভারত ক্রমেই গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে এবং তারা পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক মর্যাদা মেনে নিতে পারছে না। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের জোরালো ভূমিকা ভারতকে অস্বস্তিতে ফেলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পেহেলগাম ঘটনার কথা উল্লেখ করে খাজা আসিফ বলেন, ভারত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরাতে প্রতিনিয়ত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালায়। তবে পাকিস্তান এখন অনেক বেশি সুসংহত এবং যেকোনো আক্রমণ মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে খাজা আসিফ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে তিনি ভারতকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পারমাণবিক শক্তিধর দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধ হলে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

তাই ভারতকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, উত্তজনা না বাড়িয়ে দিল্লির উচিত কূটনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান খোঁজা। তবে যে কোনো হঠকারী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জবাব হবে দ্রুত, ভারসাম্যপূর্ণ ও চূড়ান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com