‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে তামাক পণ্যে কর বৃদ্ধির বিকল্প নেই’

অনলাইন ডেস্ক

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ ছোবল থেকে বাঁচাতে তামাকজাত পণ্যের দাম ও কর বৃদ্ধির বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি। তিনি বলেন, ‘আমি সংসদ অধিবেশনে বিষয়টি উপস্থাপন করব। সেই সঙ্গে আমি সরকারকে এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নারী মৈত্রী আয়োজিত ‘তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণদের সুরক্ষায় তামাকজাত দ্রব্যে কর বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।

তুলি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়গুলোতে আমরা তরুণদের শক্তি দেখতে পেয়েছি। বর্তমান সরকারও তরুণ নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। একদিকে তরুণরা যেমন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, আবার তামাক কম্পানিগুলো নিজেদের মুনাফার লোভে ওই তরুণদেরই আসক্তির পথে ঠেলে দিচ্ছে। এই তামাক কম্পানিকে লাভবান রেখে আর যা-ই হোক, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্ভব নয়।

বর্তমান সরকার যেমন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর, তেমনি তামাক নিয়ন্ত্রণেও নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। আসন্ন বাজেটে তামাকজাত পণ্যে কর ও মূল্যবৃদ্ধি করার মাধ্যমে সে লক্ষ্যে আরো এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমি সংসদ অধিবেশনে বিষয়টি উপস্থাপন করব। সেই সঙ্গে আমি সরকারকে এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

নারী মৈত্রী তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরামের আহ্বায়ক শিবানী ভট্টাচার্য বলেন, বাজারে চাল-ডাল, তেল-নুন-সবকিছুর দামই বাড়ছে, কিন্তু বিড়ি-সিগারেটের দাম তেমন বাড়ে না। তাই এগুলো এখনো সবার, বিশেষ করে তরুণ আর নিম্নআয়ের মানুষের হাতের নাগালেই রয়ে গেছে। এই জন্য তামাক সেবন কমছে না, বরং আরো বাড়ছে। সরকারের অংশ হিসেবে বর্তমান সরকারের কাছে আমার দাবি, তামাকপণ্যের দাম বাড়ান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করুন।

বিষয়ভিত্তিক প্রেজেন্টেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, দেশে তামাকপণ্যের খুচরামূল্য বা ভিত্তিমূল্য খুবই কম।

তাই করহার বেশি হলেও তা তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে তেমন কোনো অবদান রাখে না। এই ত্রুটিপূর্ণ কর-কাঠামোই স্ব-বিরোধ তৈরি করেছে এবং এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তামাক কোম্পানিগুলো রাজস্ব বোর্ডকে কর না বাড়ানোর ব্যাপারে প্রভাবিত করে থাকে।
তিনি আরো বলেন, সম্পূরক শুল্ক না বাড়িয়ে কেবল মূল্যস্তর বৃদ্ধির মাধ্যমে সিগারেটের দাম বাড়ানো হলে বর্ধিত মূল্যের একটি বড় অংশ তামাক কোম্পানির পকেটে চলে যায়। কিন্তু এই প্রস্তাবনা অনুসরে, মূল্য বৃদ্ধি ও করারোপ করলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে, ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে এবং ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি তামাক কর রাজস্ব পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, আগের অর্থবছরের চেয়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আয় হবে।

নারী মৈত্রী তামাকবিরোধী ইয়ূথ ফোরামের সদস্যস আবীর হোসেন বলেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার তরুণসমাজের ওপর। আমরা তরুণরাই যদি আসক্ত হয়ে পড়ি, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ খারাপ দিকে যাবে। তামাক কোম্পানিগুলো চতুরভাবেই আমাদেরকে টার্গেট করে আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়। আর এই আসক্তি থেকে বাঁচার একটি অন্যতম উপায় হলো তামাকজাত দ্রব্যের কার্যকর কর ও মূল্য বাড়িয়ে তামাকজাত পণ্যকে তরুণদের নাগালের বাইরে নিয়ে যাওয়া। সরকারকে এ বিষয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আসন্ন বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধি করতে হবে।

নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলির সভাপতিত্বে সভায় আরো ছিলেন নারী মৈত্রী তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরাম, শিক্ষক ফোরাম, সাংবাদিক ফোরাম ও ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরা। তারা সবাই তামাকজত পণ্যে কর বাড়ানোর জোর দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com