ডেস্ক রিপোর্ট
মাধ্যমিক শিক্ষাক্রমে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়— ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রকাশিত নতুন পাঠ্যবইগুলোতে কোটা সংস্কার আন্দোলন, আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিবর্ষণ, ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলা এবং শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঘটনাপ্রবাহ স্থান পেয়েছে।
এবারের পাঠ্যবইয়ে একই সঙ্গে পুনরায় যুক্ত করা হয়েছে মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার ইতিহাস, যা পূর্ববর্তী শিক্ষাক্রমে বাদ পড়েছিল। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইতিহাস, বাংলা সাহিত্য ও ইংরেজি বিষয়ের বইয়ে শিক্ষার্থীদের বয়স ও বোধগম্যতা অনুযায়ী অধ্যায় ও পাঠ সংযোজন করা হয়েছে।
এনসিটিবির প্রকাশিত পাঠ্যবই ঘেঁটে দেখা গেছে, ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস অধ্যায়ে মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার ছবি ও বিবরণ পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই বইয়ে ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান’ শিরোনামে নতুন পরিচ্ছেদে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে। এতে শহীদ নূর হোসেন ও জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদের প্রতীকী ছবিও সংযুক্ত করা হয়েছে।
পাঠ্যাংশে উল্লেখ করা হয়েছে, কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনে সরকারদলীয় সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহিংসতায় রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরামসহ একাধিক শিক্ষার্থী নিহত হন। এসব ঘটনার পর আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে গণআন্দোলন রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান— এমন বিবরণও পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সপ্তম শ্রেণির বাংলা বইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক কবিতা যুক্ত করা হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির বাংলা ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে গণঅভ্যুত্থানের ধারণা, পটভূমি, কারণ ও ফলাফল আলাদা অধ্যায়ে তুলে ধরা হয়েছে। নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ‘নতুন গৌরবগাথা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইংরেজি বই ‘English For Today’-এ গ্রাফিতির ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রসঙ্গ যুক্ত করা হয়েছে।
পাঠ্যবইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, নতুন প্রজন্ম সত্য ইতিহাস জানার সুযোগ পাবে এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন হবে।
এদিকে এনসিটিবি জানিয়েছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই সরবরাহ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই সব মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
















Leave a Reply