সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের গুজব, অধিদপ্তরের সতর্কতা

ডেস্ক রিপোর্ট

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত না হতে সতর্ক করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আগামী ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিতব্য এ পরীক্ষাকে ঘিরে দালাল বা প্রতারকচক্রের প্রলোভনে পড়ে কোনো ধরনের টাকা লেনদেন না করারও আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর। একইসঙ্গে পরীক্ষার সব কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কতা জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব গুজবে বিভ্রান্ত না হতে পরীক্ষার্থীদের সতর্ক করা হচ্ছে। একইসঙ্গে দালাল বা প্রতারকচক্রের প্রলোভনে পড়ে কোনো ধরনের টাকা লেনদেন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর লিখিত পরীক্ষা আগামী ৯ জানুয়ারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়োগ কার্যক্রম নিয়োগবিধি অনুসরণ করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।

অধিদপ্তর জানায়, পরীক্ষার্থীদের রোল নম্বর প্রস্তুত, আসন বিন্যাস, প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও প্রেরণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফলাফল প্রস্তুতসহ সব কার্যক্রম সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা হয়। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা অবৈধ হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।

এ অবস্থায় দালাল বা প্রতারকচক্রের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে চাকরি পাওয়ার কোনো প্রলোভনে না পড়তে সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে অধিদপ্তর। কেউ যদি এ ধরনের প্রস্তাব দেয়, তবে তাকে নিকটস্থ থানায় সোপর্দ করা অথবা থানা কিংবা গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কোনো প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার কারণে ২ জানুয়ারির নির্ধারিত পরীক্ষা পিছিয়ে ৯ জানুয়ারি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরীক্ষার্থীদের সুবিধা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষার সময় সকাল থেকে পরিবর্তন করে বিকেলে নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুই ধাপে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।

এর মধ্যে প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com