চুয়াডাঙ্গায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থাকতে পারে আরও ১০ দিন

ডেস্ক রিপোর্ট

টানা এক সপ্তাহ ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে রয়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। তাপমাত্রায় সামান্য ওঠানামা থাকলেও হাড় কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন এখনো বিপর্যস্ত। সকাল থেকে রোদের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে চাইছে না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ। 

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, জেলায় টানা এক সপ্তাহ ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে এবং এটি আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করবে। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকরা। ভোরে কাজে বের হলেই ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসছে বলে জানান তারা। 

শীতের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্য খাতেও। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।

তীব্র শীত শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলেছে। ভোরে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে যানবাহনে চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে হেঁটে যাতায়াত করছে।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আগে ভ্যান বা ইজিবাইকে যেতাম। এখন শীত এত বেশি যে ওগুলোতে বসে থাকা যায় না। হেঁটে গেলে শরীর কিছুটা গরম হয়, কিন্তু হাত-পা খুব ঠান্ডা হয়ে যায়।

শীতের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। একই সঙ্গে প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।

ব্যবসায়ীরা জানান, সকাল বেলায় ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম থাকে। সাধারণত রোদ উঠলে তারপর কিছুটা ক্রেতা আসতে শুরু করে। শীতের কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও লেনদেন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com