ডেস্ক রিপোর্ট :
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ উসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে শত-সহস্র কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। যারা এই বিনিয়োগ করেছে, তারা শুধু শহীদ উসমানের মাথায় গুলি করেনি, তারা বাংলাদেশের মাথায় গুলি করেছে, বাংলাদেশের পতাকায় গুলি করেছে এবং দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হেনেছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুম্মার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল শেষে টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
সমাবেশে আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, গতকাল শহীদ উসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট পর্যালোচনার শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে মূল আসামিদের কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি বলেন, “কারা তাদের আড়াল করতে চায়, আমরা তা বুঝি। রাষ্ট্র যদি তাদের আড়াল না করে, তাহলে তাদের লুকানোর কোনো পথ নেই।”
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে বিরোধী দলের কেউ যদি ৪০ ফুট মাটির নিচে লুকিয়েও থাকত, রাষ্ট্র তাকে খুঁজে বের করেছে। অথচ যারা শহীদ উসমান হাদিকে হত্যা করেছে, তারা প্রকাশ্যেই দেশে অবস্থান করছে। রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে তাদের রক্ষা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চলছে বলেই আজ জনগণ রাজপথে নেমেছে।
হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও অর্থের প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “একজন মানুষকে হত্যা করতে শত কোটি টাকা লাগে না। এক লাখ টাকা দিলেই নেশাগ্রস্ত কিছু লোক খুন করে আসে। তাহলে প্রশ্ন হলো—এই শত কোটি টাকা কোথায় গেল, কারা এই অর্থ বিনিয়োগ করেছে এবং কেন?”
চার্জশিট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। জাবের বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে পাঁচটি টিম জড়িত ছিল—এ কথা তারা অস্বীকার করেনি। কিন্তু চার্জশিটে শুধু চারজনের নাম কেন? যারা সরাসরি গুলি করেছে শুধু তাদের নামই আছে। বাকি টিমগুলোর বিষয়ে কোনো তথ্য নেই কেন—এটা আমরা জানতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা বলেছেন, ৫ তারিখে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে বসে ২১ জনের একটি টিম শহীদ উসমান হাদিকে গুলি করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু চার্জশিটে ফয়সাল, মাসুদ ও আলমগীর ছাড়া বাকি কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। তাহলে কীভাবে বলা হলো, ২১ জন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত?”
সমাবেশ শেষে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, তার মতে রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিরাও এই অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তিনি বলেন, “বাংলার এই জমিনে শহীদ উসমান হাদিরা মারা যাওয়ার পরও এই লড়াই চলবে।”















Leave a Reply