সাইয়্যেদ মুহাম্মদ শান্ত-পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
নির্মান কাজে অনিয়মের বিষয়য়ে প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসা করতেই গণমাধ্যম কর্মীদের উপর তেড়ে উঠলেন ঠিকাদারের প্রতিনিধি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হলেও নেয়া হয়নি ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তদারকি ছাড়াই ঠিকাদার করছে ইচ্ছে মত কাজ। কৃষক পর্যায়ে বিএডিসির বীজ সরবরাহ কার্যক্রম জোরদারকরন প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ২ কোটি ২৩ লাখ টাকায় নির্মিত হচ্ছে দপ্তর সহ বীজ ভান্ডার। প্রায় ১০ মাস আগে শুরু করা এই কাজের ৩০ শতাংশ কাজ এখনো সমাপ্ত হয়নি। এরইমধ্যে নির্মান কাজে সীমাহীন অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওয়াহিদ এন্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে।
নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে যেনতেন ভাবে এই নির্মান কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এলাকাবাসির এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ( বিএডিসি) বীজ বিপণন দিনাজপুর অঞ্চলের কাছে অভিযোগ দাখিল করেন এলাকার মানুষ। অভিযোগটি আমলে নিয়ে উপপরিচালক ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি ইতিমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিম্নমানের ইট ব্যবহার সহ অন্যান্ন অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট বিভাগে দাখিল করেছে।
কিন্তু অদ্যাবধি নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি অজ্ঞাত খুটির জরে তাদের নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিএডিসির দিনাজপুর ও ঠাকুরগাও অঞ্চলের দুজন সহকারী প্রকৌশলী এই নির্মান কাজের তদারকি করছেন। পঞ্চগড় সদর উপজেলার সামনে ১১ মে সকালে এই ভবনের নীচতলার মেঝে ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। রাতের আধারে সীমানা প্রচীরের ভিতর প্রধান ফটক বন্ধ করে নানা অনিয়মে নির্মান করা হচ্ছে এই ভবন। এমন অভিযোগ গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এলে ফ্লোর ঢালাইয়ের সময় হাজির হয় গনমাধ্যমের কর্মীরা। সে সময় প্রতিষ্ঠানের তদারকির দায়িত্বে থাকা দুজন সহকারী প্রকৌশলীকে কাজের প্রাক্কলন, নিম্মমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারেরর প্রতিনিধি তেড়ে উঠে গণমাধ্যম কর্মীদের উপর। বাধা দেন কাজের বিষয়ে প্রকৌশলীদের সংঙ্গে কথা বলতে। বলেন আপনারা কাজের বিষয়ে কি বুঝেন? আমার সাথে কথা বলেন কাজ শতভাগ ঠিক হচ্ছে। আমাদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে খোজ নেন আমরা অনেক প্রতিষঠানের জন্ম দিয়েছি। এসময় ঠিকাদারের পক্ষে সাফাই গাইতেই থাকেন সংশ্লিষ্ট দুই সহকারী প্রকৌশলী।
এক পর্যায় তারা কোন প্রকার তথ্য দিতে না চাইলে বিএডিসির দিনাজপুর জোনের উপ পরিচালক মোজাহারুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ঠিকাদারে বিরুদ্ধে অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছেন এবং অচিরেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান। অভিভাবকহীন ভাবে নানা অনিয়মে সরকারী অর্থায়নে নির্মান করা হচ্ছে বীজ গুদাম সহ দপ্তরটি বিষয়টি তাৎক্ষনিক গণমাধ্যম কর্মীরা জেলা প্রশাসক পঞ্চগড় কে জানালে তিনি তাৎক্ষণিক ভাবে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয় টি দেখার জন্যে নির্দেশ দেন। পরিস্থিতি জটিল হলে ঠিকাদার সহ প্রকৌশলীরা সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। বলেন আপনারা চলে যান পরে আপনাদের সাথে যোগাযোগ করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের এই বীজ ও বিপনন কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ পরিত্যাক্ত অবস্থায় কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। জেলার ক্ষদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের সহজেই বীজ সরবরাহ করার লক্ষ্যে সরকার নতুন অফিস সহ বীজ ভান্ডারটি নতুন করে নির্মানের উদ্যোগ গ্রহন করে ২০২৫_২৬ অর্থ বছরে। ৩শ বর্গ মিটার সরকারী জায়গায় বীজ স্টোরেজ নির্মানে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দে নতুন ভবন নির্মানের কাজ হতে নেয়। পুরাতন গুদামঘরটি নিলাম, প্রধান ফটক,সীমানা প্রাচীর নির্মান, সহ সরকারী গাছ নিলাম কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে বিএডিসির বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব অনিয়ম করে বর্তমানে নতুন গুদামঘর নির্মানে অনিয়ম দূর্নীতি করছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করেছে। ধান গম সহ বিভিন্ন সব্জি আবাদে পঞ্চগড়ের চাষিরা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। সরকারি বীজ সহজেই প্রাপ্তির জন্যে বিএডিসির এই গুদামঘর নির্মান অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। চাষিরা দাবি করছে সঠিকভাবে এই গুদামঘর নির্মান করে দ্রুত এর কার্ক্রম চালু করা।
















Leave a Reply