ডেস্ক রিপোর্ট
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নির্বাচনী ডামাডোল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে পুরোদমে প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা। তবে উৎসবের আমেজের চেয়ে নির্বাচনী মাঠে এখন বেশি আলোচনায় রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।
মাঠের লড়াই শুরুর আগেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে চারটি রাজনৈতিক দলকে সতর্কবার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতীক বরাদ্দের আগেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) চার দলকে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর গত মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২১ জানুয়ারির আগে যেকোনো ধরনের প্রচারণা নির্বাচনী আচরণবিধিমালার ১৮ নম্বর বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানায় বিএনপি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের কিছু সিনিয়র কর্মকর্তাও একটি দলের পক্ষে কাজ করছেন বলে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি জামায়াতের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়।
এদিকে নির্বাচনের আগে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, পোস্টাল ব্যালটের কলাম এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে নির্দিষ্ট কিছু দল সুবিধা পায়। এমনকি প্রবাসীদের জন্য পাঠানো ব্যালট নিয়েও কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পোস্টাল ব্যালটের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইসির তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচারণা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।















Leave a Reply