অনলাইন ডেস্ক :
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা প্রত্যাহারের বিধান রাখা হয়েছে এ অধ্যাদেশে। পাশাপাশি, এ সংক্রান্ত নতুন কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের আইনত করা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটির গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে সর্বাত্মক আন্দোলনে অংশ নেয়, সেটিই পরবর্তীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এ সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহালের জন্য আত্মরক্ষাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে আদালতে আবেদন করা হবে। আবেদন দাখিলের পর সংশ্লিষ্ট আদালত আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবেন না এবং মামলাটি প্রত্যাহার হয়েছে বলে গণ্য হবে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে। কমিশন অভিযোগ তদন্ত করবে। তবে যেসব ক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তি পুলিশ বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছিলেন, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর বর্তমান বা সাবেক কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
তদন্ত চলাকালে আসামিকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে মানবাধিকার কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে বলেও অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে।
কমিশনের তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, তাহলে তা আদালতে প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হবে এবং আদালত পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। আর যদি অভিযোগে উল্লিখিত কার্যক্রম রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে কমিশন উপযুক্ত মনে করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে।















Leave a Reply