২৩৬ প্রার্থীর নির্বাচনী লড়াইয়ে নারী মাত্র ৯, তৃতীয় লিঙ্গের একজন

অনলাইন ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি সংসদীয় আসনে মোট ২৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এই বিপুল প্রতিযোগিতার ভিড়ে নারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৯ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী রয়েছেন ৪ জন। পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী থেকে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে আছেন আনোয়ারা ইসলাম রানী।

নির্বাচন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রংপুর বিভাগে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়লেও এখনও তা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বরং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় ত্রয়োদশ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে ২৩ জন নারী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে ভোটে ছিলেন ১৫ জন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৯ জনে।

এর আগে দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগে নারীর অংশগ্রহণ ছিল আরও সীমিত। দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভোট বর্জনের কারণে অধিকাংশ আসনে একক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় গাইবান্ধা-২ আসন থেকে মাহাবুব আরা গিনি এবং রংপুর-৬ আসন থেকে শিরিন শারমিন চৌধুরী নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ—আরপিও ১৯৭২-এর সংশোধনীতে দলীয় কমিটিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ নারী রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে কোনো বড় দলই তা বাস্তবায়ন করেনি। এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আলোচনায় ৫ শতাংশ নারী মনোনয়নের প্রতিশ্রুতিও এবারের নির্বাচনে রক্ষা করা হয়নি।

বিএনপি তাদের মোট প্রার্থীর মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী এবার কোনো আসনেই নারী প্রার্থী দেয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণত নারীদের মনোনয়ন দেয় এমন আসনে, যেখানে জয়ের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। ফলে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়লেও নির্বাচিত হওয়ার হার এক শতাংশেরও নিচে থেকে যাচ্ছে।

এদিকে, রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলায়—পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে—এবার কোনো নারী প্রার্থী নেই। যদিও তফসিল ঘোষণার আগে এসব এলাকায় একাধিক নারী প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন।

নারী প্রার্থীরা বলছেন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক প্রভাব—এই তিনটি বিষয়ই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা। তবুও সমান অধিকার ও প্রতিনিধিত্বের দাবিতে তারা মাঠে থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com