ডেস্ক রিপোর্ট
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকায় অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে এবার অত্যাধুনিক থার্মাল ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। গভীর রাতে পরিচালিত এই অভিযানে বাংলাদেশিসহ মোট ২১৮ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তামান ইমাস এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন বিভাগ ও জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের যৌথ একটি দল অংশ নেয়। অভিযানের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবন মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৮৭ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়।
শুক্রবার মালয়েশিয়ান রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বার্নামা নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, অবৈধ অভিবাসীরা যেন পালিয়ে যেতে না পারে—সে জন্য প্রথমবারের মতো এই অভিযানে ‘থার্মাল ড্রোন’ ব্যবহার করা হয়। ভবনের ছাদ, অন্ধকার করিডোর কিংবা জনশূন্য স্থানে লুকিয়ে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের (অপারেশন) ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, থার্মাল ড্রোনের সাহায্যে অন্তত ১৫ জন বিদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যারা গ্রেপ্তার এড়াতে ভবনের ছাদে লুকিয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, “ড্রোন প্রযুক্তির ফলে অল্প সময়ে বিস্তৃত এলাকা নজরদারিতে আনা সম্ভব হয়েছে।”
কর্তৃপক্ষ জানায়, আটক ২১৮ জনের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ৫২ জন নারী। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন—মিয়ানমারের ৭৮ জন, বাংলাদেশের ৫৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৪৪ জন, নাইজেরিয়ার ১২ জন, নেপালের ১০ জন, ভারতের ৫ জন, শ্রীলঙ্কার ৪ জন এবং অন্যান্য দেশের ৯ জন নাগরিক।
আটককৃতদের সবাইকে সেলাঙ্গরের সেমেনিহ ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। বৈধ ভ্রমণ নথিপত্র না থাকা, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অতিরিক্ত সময় অবস্থান এবং ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহারের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।
মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের ২৭৯ জন কর্মকর্তা এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের ১০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি জোরদার করা হবে।















Leave a Reply