লালমনিরহাট-৩ ‘লালমনিরহাটে সুজনের আয়োজনে এক মঞ্চে মুখোমুখি ৬ প্রার্থী

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

“একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই”এই স্লোগানকে সামনে রেখে লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে প্রার্থীদের নিয়ে ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠান। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) লালমনিরহাট জেলা কমিটির আয়োজনে শহরের রেলওয়ে মুক্ত মঞ্চে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

​লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনের ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এতে অংশ নেন এবং ভোটারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা নিজেদের ইশতেহার ও উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

​জেলা সুজনের সভাপতি আমিনুল হায়াত মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুজন জেলা কমিটির উপদেষ্টা গেরিলা লিডার এস এম শফিকুল ইসলাম কানু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুজনের রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়কারী রাজেশ দে।

লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত ক্রম অনুযায়ী প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। ​দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু তাহের বলেন, নির্বাচিত হলে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করব। প্রতিটি ইউনিয়নে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ডিজিটাল সুবিধাসসহ স্মার্ট স্কুল ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করব। কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে কৃষকদের স্বার্থে ধান, ভুট্টা, আলুসহ সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে একটি ‘কৃষক বাজার’ স্থাপন করা হবে।

​বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, আপনারা জানেন আমি ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গড়ার আন্দোলন করছি। মাদক, যৌতুক ও বাল্যবিবাহসহ ১৩টি সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমি কঠোর অবস্থানে রয়েছি। কারণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও সমাজে শান্তি না থাকলে তা অর্থহীন। রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী এই শহরটি পুরোনো হলেও আধুনিক শহরের মর্যাদা পায়নি। নির্বাচিত হলে লালমনিরহাটকে আধুনিক শহরে রূপান্তর করার পরিকল্পনা আমার রয়েছে।

​জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জাহিদ হাসান বলেন, রাজনীতি শুধু ভোট করে নেতা হওয়া বা রাস্তাঘাট নির্মাণ নয়, রাজনীতি হলো সুশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। জাতীয় পার্টি অতীতে তিস্তা ব্যারেজ, নীলফামারীর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এবং বুড়িমারী স্থলবন্দর আধুনিকায়নের মতো কাজ করে দেখিয়েছে। আবারও সুযোগ পেলে নতুন করে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা হবে।

​কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী মধুসূদন রায় মধু বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার,সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাম গণতান্ত্রিক সরকার গড়তে আমরা নির্বাচনে এসেছি। কমিউনিস্ট পার্টি বিশ্বজুড়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। আমি নির্বাচিত হলে দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে কাজ করব।

​অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাথাল মার্কার প্রার্থী দিপক কুমার রায় ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম।

বক্তব্য শেষে উপস্থিত ভোটারদের মধ্য থেকে একজন ভোটার প্রতিটি প্রার্থীকে চারটি করে প্রশ্ন করেন। প্রার্থীরা সাবলীলভাবে এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেন। এই ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখতে ও প্রার্থীদের কথা শুনতে রেলওয়ে মুক্ত মঞ্চ এলাকায় সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com