ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘যারা হিন্দু- মুসলমানে ভেদাভেদ করে তার ফায়দা নিতে চায় এরা দেশের ক্ষতি চায়। আমরা একটি শান্তির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যেখানে হিন্দু-মুসলমানের কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। একটা কথা মনে রাখতে হবে আমরা যদি একসাথে এগিয়ে যাই তাহলে আমাদের কেউ আটকাতে পারবেনা। আর হিন্দু মুসলমানকে ভাগ করে দিলে আমরা আগাইতে পারব না। তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ না । শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা নিমবাড়ীসহ আকচা ইউপি (পশ্চিম) এলাকায় বিভিন্ন পথসভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি জোর গলায় বলতে চাই। আপনাদের আমানত ভোটের যে দায়িত্ব আমি নেব তা কখনো খেয়ানত করব না।’ ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গতকাল রংপুরে আমাদের তরুণ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের দল বিএনপি যদি নির্বাচিত হতে পারে, তাহলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ যাদের আছে, সুদসহ মাফ করে দেবেন। আরেকটা কথা বলেছেন, আমার মায়েদের জন্য খুব ভালো একটা খবর, প্রায় সবাই এনজিওর কাছে টাকা ধান নেন। এনজিওর যত টাকা আছে, এটার দায় সরকার নিয়ে নেবে, আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি।’ তিনি বলেন, ‘আমি যখন মন্ত্রী ছিলাম, তখন কারো কাছ থেকে এক কাপ চাও গ্রহণ করিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাজনীতিতে সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি দাবি করেন, দায়িত্বশীল পদে থাকার সময় তিনি সবসময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রাধান্য দিয়েছেনফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের নমুনা দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এই রকম একটা কার্ড আমার মায়েদেরকে দেওয়া হবে। এটা হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। এটা দিয়ে বাড়ির প্রধান নারী ন্যায্য মূল্যে চাল, ডাল, তেল, লবণ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবেন; হাসপাতালে গিয়ে বাচ্চা বা নিজের চিকিৎসায় সুবিধা পাবেন এবং স্কুলে বাচ্চার লেখাপড়ার জন্য সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন।’ এ সময় তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ওপর গুরুত্ব দেন। বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, কৃষক ভাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট করে, কিন্তু সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয় উলেখ করে ফখরুল বলেন, ‘কৃষক কার্ড দেওয়া হবে কৃষককে। তিনি ন্যায্য মূল্যে সার পাবেন, বীজ পাবেন, আর সেচের পানি পাবেন। আমাদের শিক্ষিত বেকার ভাই-বোনদের জন্য তিনি (তারেক রহমান) ১৮ মাসে এক কোটি কাজের ব্যবস্থা করবেন।’ ‘এগুলো শুধু কথার কথা না। তিনি এগুলো করবেন, কারণ আমরা অতীতে এগুলো করে দেখিয়েছি। আর শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করবেন। হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানের মধ্যে ভাতৃত্ব সৃষ্টি করবেন। অসাম্প্রদায়িক একটা রাজনীতি নিয়ে আসবেন। সাম্প্রদায়িকতা—হিন্দু-মুসলমানের ভেদাভেদ আমরা একেবারে বন্ধ করে দেবো। আমাদের এখানে সবাই যে যার ধর্ম করবে, যে যার কর্ম করবে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্রটা সবার,’ বলেন তিনি।
জাকির মোস্তাফিজ মিলু ঠাকুরগাঁও















Leave a Reply