জবির রসায়ন বিভাগে সনদপত্র ফেরতে অর্থ দাবির অভিযোগ

জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম শেষে জমা রাখা মূল সনদপত্র ফেরত পেতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, রসায়ন সমিতির এলামনাই সদস্য ফি’র নামে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা দিতে বলা হচ্ছে। টাকা না দিলে এসএসসি ও এইচএসসি সনদ, নম্বরপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফেরত দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, ভর্তি কার্যক্রমের সময় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদপত্র বিভাগে জমা রাখতে হয় এবং পড়াশোনা শেষে বা প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো অতিরিক্ত ফি ছাড়াই সেগুলো ফেরত পাওয়ার কথা। প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, সনদপত্র ফেরতের ক্ষেত্রে অর্থ নেওয়ার কোনো বিধান নেই। তবে রসায়ন বিভাগে সেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটছে বলে অভিযোগ উঠায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, সনদপত্র নিতে গেলে তাদের এলামনাই সদস্যপদের ফরম পূরণ করতে বলা হয় এবং একই সঙ্গে ৩ হাজার টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কেউ সদস্য হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে সনদপত্র দেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিজ্ঞতার কথাও জানান কয়েকজন শিক্ষার্থী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের সার্টিফিকেট ব্যক্তিগত সম্পদ। এগুলো আটকে রেখে জোর করে সদস্য ফি নেওয়া অন্যায়। অন্য কোনো বিভাগে এমনটা নেই। সদস্য হব কি না, সেটা আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।” আরেক শিক্ষার্থী জানান, চাকরির আবেদন ও উচ্চশিক্ষার কাজে সনদপত্র জরুরি হলেও অর্থ দিতে না পারায় তিনি তা সংগ্রহ করতে পারেননি। এতে তার গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চাকরির ভাইভা সামনে, কিন্তু টাকা না দিলে সার্টিফিকেট দিচ্ছে না। এটা চাপ প্রয়োগ করে অর্থ আদায়ের শামিল।” শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এ প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও সম্প্রতি জরুরি প্রয়োজনে সনদপত্র তুলতে এসে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীরা এতে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। অনেকেই মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন বলেও জানান তারা। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মতে, এলামনাই সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী হওয়া উচিত। সনদপত্র ফেরতের সঙ্গে তা শর্ত হিসেবে যুক্ত করা নীতিমালাবিরোধী এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক প্রশাসনিক সূত্র বলছে, যদি সনদপত্র ফেরতে অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হবে এবং বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান বলেন, “সার্টিফিকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যতামূলক ফি নেই। এলামনাই সদস্য হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। কেউ ইচ্ছা করলে সদস্য হয়ে তিন হাজার টাকা দিতে পারেন, তবে সদস্য হতে না চাইলে টাকা দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।” ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করে জানান, সনদপত্র আটকে রেখে কোনোভাবেই অর্থ আদায় গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com