ডেস্ক রিপোর্ট
কুড়িগ্রাম জেলায় অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে দুর্গম চরাঞ্চলে প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদ-নদীর প্রায় ৩২০ কিলোমিটার নদীপথজুড়ে রয়েছে সাড়ে চার শতাধিক চরাঞ্চল। এসব দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় প্রতি নির্বাচনে ছোট-বড় সহিংসতার ঘটনা ঘটে থাকে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি (রংপুর এরিয়া) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানের নেতৃত্বে কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম মাঠে ঘণ্টাব্যাপী মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন নয়ারহাট ইউনিয়নের খেরুয়ার চর এলাকায় হেলিকপ্টার মহড়াও পরিচালনা করা হয়। এ সময় সেনাসদস্যরা হেলিকপ্টার থেকে প্যারাসুটের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় নামার অনুশীলন করেন এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
নয়ারহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, “সেনাবাহিনীর এমন কার্যক্রম দেখে আমরা চরবাসী খুশি। নিরাপদভাবে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবো বলে আশা করছি।”
একই এলাকার আলম মিয়া বলেন, “মহড়ার সময় সেনাবাহিনী আকাশপথে এসে চরাঞ্চলের ভোটকেন্দ্র এলাকায় প্যারাসুটে নামার অনুশীলন করেছে। এতে আমাদের মধ্যে নিরাপত্তার আস্থা তৈরি হয়েছে।”
কুড়িগ্রাম সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল নাঈম জানান, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৬৫০ জন সেনাসদস্য মাঠে থাকবে। দুর্গম চরাঞ্চলসহ যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নদীমাতৃক কুড়িগ্রাম জেলায় ৯টি উপজেলা, ৭৩টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ৪টি সংসদীয় আসন রয়েছে। জেলার ৭০৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৮৬টি কেন্দ্রকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একটি করে এবং অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৬টি করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে ২ জন পুলিশ ও ১৩ জন আনসার দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি প্রায় ২ হাজার পুলিশ, ৪৫০ বিজিবি, ৬০০ সেনাসদস্য ও র্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে।
এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “কুড়িগ্রাম একটি শান্তিপ্রিয় জেলা। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে আমরা সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করছি।”
















Leave a Reply