গণতান্ত্রিক দায়িত্বে অবিচল ছিল ৯২ বছরের এক প্রবীণার অনুপ্রেরণা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলার গোপালরায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে বুধবার দুপুর বারোটায় হাজির হন ৯২ বছর বয়সী মমেনা বেগম। দুই হাতে লাঠি ব্যবহার করে ধীরগতিতে হাঁটলেও, গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি তার অদম্য স্পৃহা কেন্দ্রে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেছে।

মমেনা বেগম জানান, দীর্ঘদিনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও একাকিত্ব তাকে বাধা দিতে পারেনি। তিনি বলেন, “শরীর চলে না বাবা, তবুও আসলাম। ভোট দেওয়া তো আমাদের আমানত। পছন্দের মানুষকে ভোট না দিলে শান্তি পাইতাম না।” বহু বছর পর আবার ভোট দেওয়ার আনন্দে তার চোখে উজ্জ্বলতা দেখা গেছে। তার নিষ্ঠা এবং সংকল্প কেন্দ্রে উপস্থিত তরুণ ভোটারদেরও উদ্দীপনা জাগিয়েছে।

তার সঙ্গে থাকা মেয়ে প্রতিবেশী রুনা বলেন, “চাচি আম্মা ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে আমরা তাকে নিয়ে এসেছি। দুঃখজনক হলেও মা চোখে ভালো দেখতে পারেন না, তবে তার এই উদ্যম সবাইকে অনুপ্রাণিত করছে।” কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার মোহাম্মদ মাসুদ মুস্তাজীর বলেন, “শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও মমেনা বেগমের মতো বয়স্ক মানুষের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি আমাদের জন্য গর্বের। আমরা তাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।”

লালমনিরহাট ২ আসনের আদিতমারী কালিগঞ্জের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ মমতাজ আলী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোঃ ফিরোজ হায়দার লাভলু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মোঃ মাহফুজুর রহমান, জনতার দলের প্রার্থী মোঃ শামীম কামাল, বিএনপি প্রার্থী মোঃ রোকন উদ্দীন বাবুল, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোঃ এলাহান উদ্দিন এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি প্রার্থী নিমাই চন্দ্র রায় রয়েছে।

লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালিগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৩২,৯৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,১৭,২০০ জন, নারী ভোটার ২,১৫,৭৬০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৫৫।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, সব কেন্দ্রে নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু ভোট পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা জোরদার করেছেন। ভোটারদের ভয়ভীতি বা বাধা দেওয়া হবে না।” জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম রকিব হায়দার আরও বলেন, “ভোটকেন্দ্র দখল, জালভোট বা ভোটারদের ওপর যে কোনও প্রকার হুমকির বিরুদ্ধে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রস্তুত।”

মমেনা বেগমের এই সাহসিকতা শুধু ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ নয়, এটি গণতন্ত্রের শক্তি এবং সামাজিক অনুপ্রেরণার প্রতীক। তার উপস্থিতি প্রমাণ করে, বয়স, অসুস্থতা বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো পরিস্থিতিতেই গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালনের পথে বাধা হতে পারে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com