ডেস্ক রিপোর্ট
আফগানিস্তান-এর ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ‘ক্যাম্প ও আশ্রয়স্থল’ লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। রোববার ভোরের দিকে চালানো এ হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ইসলামাবাদ দাবি করেছে, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক একাধিক হামলার সঙ্গে জড়িত আফগানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তানি তালেবান টিটিপি ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর সাতটি ক্যাম্পে হামলা চালানো হয়েছে।
এছাড়া খোরাসানভিত্তিক আইএসআইএলের শাখা আইএসকেপি-কেও নিশানা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। চলতি মাসের শুরুর দিকে রাজধানী ইসলামাবাদে আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছিল এই গোষ্ঠীটি।
পাকিস্তান দাবি করেছে, ইসলামাবাদসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজাউর ও বান্নু জেলায় সাম্প্রতিক হামলাগুলো ‘আফগানিস্তান-ভিত্তিক নেতা ও নিয়ন্ত্রকদের নির্দেশে’ পরিচালিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে তাদের কাছে ‘চূড়ান্ত প্রমাণ’ রয়েছে।
অন্যদিকে, তালেবান সরকার এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী নানগরহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের হামলায় একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও সুপ্রতিবেশীসুলভ নীতির লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কাবুল। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক নাগরিক ও ধর্মীয় স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার জন্য পাকিস্তানি বাহিনী দায়ী এবং এর উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
নানগরহারের বিহসুদ জেলা থেকে Al Jazeera-এর সাংবাদিক নাসের শাদিদ জানিয়েছেন, অন্তত ১৭ জনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানান।
পাকতিকা প্রদেশে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র: Agence France-Presse, আল জাজিরা।















Leave a Reply