অনলাইন ডেস্ক
গত বছরের ৮ নভেম্বর রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় একটি অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা উদ্ধার এবং দুজনকে আটক করার কথা বলা হয়। কিন্তু আসলে অভিযানটি ছিল সাজানো নাটক।
প্রকৃতপক্ষে ওইদিন সেখানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এক ব্যবসায়ীর নগদ পৌনে চার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে ‘জাল টাকার অভিযানে’র মামলাটি পুনরায় তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পাশাপাশি, পুলিশ অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু করে। এসব তদন্ত কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযানের নামে টাকা লোপাটের বিষয়টি সত্য।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ, তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পুলিশের সোর্সের জবানবন্দি এবং পুলিশের বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ঢাকা পোস্টের হাতে এসেছে পুলিশের সোর্সের ভিডিও বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং আরও কিছু আলামত।
ঘটনার শুরু যেভাবে
ঢাকা পোস্টের হাতে আসা যাবতীয় তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এ ঘটনার শুরু হয়েছে গত বছরের (২০২৫) ৭ নভেম্বর কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বাসিন্দা পুলিশের সোর্স দিদারুল আলমের মাধ্যমে। তিনি ঢাকায় তার পরিচিত নিজাম উদ্দিন নামে পুলিশের এক এসআইকে প্রথমে জানান, ঢাকার ওয়ারীতে ক্যাসিনোর ৫ কোটি টাকা লুকিয়ে রাখা আছে। আপনারা অভিযান চালাবেন কি না। এসআই নিজাম উদ্দিন তা এড়িয়ে যান। এরপর দিদারুল ৭ নভেম্বর চট্টগ্রামে কর্মরত তার পরিচিত এএসআই জাহিদকে বিষয়টি জানান। জাহিদ বিষয়টি জানান ঢাকার তেজগাঁওয়ে ডিবি পুলিশের এএসআই সুস্ময় শর্মাকে। এরপর সুস্ময় শর্মা একই দিন ডিবির তেজগাঁওয়ের সহকারী কমিশনার তারেক সেকান্দারকে (বর্তমানে রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) বিষয়টি অবহিত করেন। তারেক সেকান্দার সিদ্ধান্ত নেন অভিযান পরিচালিত হবে পরদিন ৮ নভেম্বর। সোর্স দিদারুল ও তার দুই সহযোগীকে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসতে বলা হয়।
মাস্টারমাইন্ড তারেকের ভিন্ন পরিকল্পনা ও ‘কথিত’ জাল টাকার অভিযান
বিপুল পরিমাণ টাকার খোঁজ পেয়ে ঢাকা মহানগর ডিবির তেজগাঁও বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার তারেক সেকান্দার মনে মনে ভিন্ন পরিকল্পনা আঁটেন। তিনি ওই টাকা কীভাবে লোপাট করা যায় সেই চিন্তা শুরু করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি প্রথমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে (ডিসি তেজগাঁও) জানান, ওয়ারীতে একটি বাসায় ছাত্রলীগের ৪ সদস্য লুকিয়ে আছে। সেখানে অভিযান পরিচালনা করতে চান তিনি। ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ তাকে অনুমতি দেন।
অনুমতি পেয়েই নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অভিযান শুরুর প্রস্তুতি শুরু করেন তারেক সেকান্দার। তার নেতৃত্বে গঠন করেন ১৩ জনের আভিযানিক টিম।
সোর্স দিদারুলের দেওয়া জবানবন্দির বর্ণনা অনুযায়ী, ওইদিন (৮ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে তারা ডিবি অফিসের গেইটে যান। সেখানে একটি মাইক্রোবাস দাঁড় করানো ছিল। এএসআই সুম্ময় শর্মা তাদেরকে এসি তারেক সেকান্দারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং গাড়িতে উঠতে বলেন। দিদারুল ও তার সহযোগী আইয়ুব ও জোবায়ের গাড়িতে উঠে অভিযানে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের দেখতে পান। এরপর গাড়িটি ওয়ারীর সেই বাসার নিচে যায়। বাসাটি ওয়ারীর জুড়িয়াটুলির ৩৮ নম্বর ভবনের ৭ম তলায় অবস্থিত।















Leave a Reply