অনলাইন ডেস্ক
মাত্র ১১ বছর বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে আব্দুর রহমান। অন্য শিশুদের মতো খেলাধুলা বা পড়াশোনার ফাঁকে আনন্দে সময় কাটানোর বদলে, তাকে লড়তে হচ্ছে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাড়ের জন্য। ছোট্ট আব্দুর রহমান হাতে এক প্যাকেট কলম নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর মানুষের কাছে বিনয়ের সঙ্গে বলছে—‘একটা কলম কিনে নেবেন?’ এ কথার মধ্যে লুকিয়ে আছে এক গভীর সংগ্রামের গল্প।
আব্দুর রহমান স্থানীয় ইটাকুমারী ইউনিয়নের হাজি ইকরা হাফিজিয়া মাদরাসার নুরানি বিভাগের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ওই ইউনিয়নের কালীগঞ্জ গ্রামে। পরিবারে এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে বড়। তার বাবা দুলু মিয়া কয়েক মাস আগে তাদেরকে ছেড়ে ঢাকায় চলে গেছেন, কোনো ভরণপোষণ দিচ্ছেন না। ফলে সংসারের পুরো বোঝা এখন তার মা তাছলিমা বেগমের কাঁধে। মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলেকে পড়াশোনা করানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
এরই মধ্যে আব্দুর রহমান নুরানি বিভাগ শেষ করেছেন। রোববার (১৯ এপ্রিল) নাজেরা বিভাগে ভর্তি হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১১০ টাকার ফি। এই টাকা তার মা জোগাড় করতে না পারলেও, থেমে থাকেনি আব্দুর রহমান। নিজের জমানো ৩০ টাকা দিয়ে এক প্যাকেট কলম কিনে সে নেমে পড়েছে রাস্তায়। লক্ষ্য—এক প্যাকেট কলম বিক্রি করে ৬ টাকা লাভ হবে, আর এভাবে করে সে ১১০ টাকা সংগ্রহ করবে, যাতে তার ক্লাশ প্রমোশন থেমে না যায়। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের হিতৈষীর সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান শিশুটির সাথে কথা বলে, তার কথা শুনে প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়ে তাকে মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দেন।
আব্দুর রহমান বলেন, নুরানি বিভাগ শেষ করেছি। রোববার (১৯ এপ্রিল) নাজেরা বিভাগে ভর্তি হবো। এজন্য টাকা দরকার। তাই কলম বিক্রি করে টাকা জোগাড় করছি।
মোস্তাফিজার রহমান বলেন, শিশুটির এই চেষ্টা শুধু দারিদ্র্যের চিত্র নয়, বরং শিক্ষার প্রতি তার অদম্য আগ্রহ ও স্বপ্নের প্রতিফলন। বয়সের তুলনায় তার দায়িত্ববোধ ও সংগ্রাম সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, আব্দুর রহমানের মতো অনেক শিশু রয়েছে, যারা সামান্য সহায়তা পেলে তাদের শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিতে পারে। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে এলে এসব শিশুর স্বপ্ন ভেঙে যাবে না। আব্দুর রহমানের এই সংগ্রাম আমাদের মনে করিয়ে দেয়— শিক্ষার প্রতি ইচ্ছা থাকলে বাধা যতই আসুক, মানুষ থেমে থাকে না। তবে তার এই লড়াইকে সহজ করতে সমাজের সম্মিলিত সহানুভূতি ও সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি।
















Leave a Reply