হাসনাত, জবি প্রতিনিধি
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যের ধারক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগে প্রথমবারের মতো অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে আয়োজিত ‘বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষে দিনব্যাপী মুখর ছিল বিভাগীয় প্রাঙ্গণ।
সকাল ১১টায় সমবেত কণ্ঠে বৈশাখী গান ও কোরাসের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপরই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শুরু হয় এক প্রাণবন্ত আলাপচারিতা। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল বাঙালির চিরায়ত বালিশ খেলাসহ বিভিন্ন ইনডোর গেমস, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে।
মধ্যাহ্নভোজ ও নামাজের বিরতির পর শুরু হয় উৎসবের দ্বিতীয় অংশ। এ পর্বে শিক্ষার্থীরা গান, নাচ, স্বরচিত গল্প বলা এবং কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে নিজেদের সৃষ্টিশীল প্রতিভা তুলে ধরেন। তৃতীয় পর্বে বাদ্যযন্ত্রের মূর্ছনায় মেতে ওঠে পুরো বিভাগ। আসরের নামাজের বিরতির পর ফোক ও ব্যান্ড সংগীতের সুরের মূর্ছনায় উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে এই বর্ণিল আয়োজনের পর্দা নামে।
বিভাগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই ঐতিহাসিক উৎসবকে সফল করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন ১৮, ১৯ ও ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। উৎসবটি সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও দায়িত্ব বণ্টন ছিল চোখে পড়ার মতো। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা সুচারুভাবে সাজানোর দায়িত্বে ছিলেন মাহিমা রহমান নিধি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন জয়ীতা চক্রবর্তী ও তাশফিকুর রহমান প্লাবন। সাংস্কৃতিক দলের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন নিয়াজ মোর্শেদ সম্পদ ও জয়ীতা চক্রবর্তী। এছাড়া পুরো আয়োজনের মূল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন কাব্য কবির। পাশাপাশি মঞ্চায়ন এবং সাজসজ্জার মূল ব্যাবস্থাপনায় ছিলেন ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও আরো অনেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটি এক অনন্য মাত্রা পায়।
জবির ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাগিব শাহরিয়ার তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আমাদের বিভাগে এটিই প্রথম বর্ষবরণ উৎসব। নাচ, গান আর আবৃত্তিতে পুরো দিনটি ছিল স্মরণীয়। বিশেষ করে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই মেলবন্ধন সত্যিই অভাবনীয়।”
১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিকা বলেন, “বিভাগের এই ঘরোয়া কিন্তু চমৎকার আয়োজন আমাদের পারস্পরিক বন্ধনকে আরও মজবুত করেছে। এমন প্রাণবন্ত পরিবেশ আমাদের নিয়মিত পড়াশোনার ক্লান্তি দূর করে নতুন শক্তি জোগায়।”
আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ আলভী আবিব বলেন, “নিজের বিভাগে নিজেদের এমন আয়োজন করতে পেরে এবং তার অংশ হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। পুরো আয়োজনে ১৫ থেকে ২০তম ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ ছিল দেখার মতো; মনে হচ্ছিল আমরা সবাই একটি পরিবার। বিশেষ করে মঞ্চায়ন এবং আলপনা আমাদের উৎসবকে পূর্ণতা দিয়েছে। আমরা আশা রাখি, এমন সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার ধারা ভবিষ্যতেও অক্ষুণ্ণ থাকবে।”
















Leave a Reply