জকসুর ক্রীড়া সম্পাদকের পদত্যাগপত্র জমা, ‘গৃহীত হয়নি’ জানালেন ভিপি

হাসনাত, জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে তাকে থাপ্পর মারা নেলীকে শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের নামে প্রতারণার অভিযোগ তুলে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। তবে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, ক্রীড়া সম্পাদকের পদত্যাগপত্র জমা পড়লেও তা গ্রহণ করা হয়নি এবং তিনি এখনো স্বীয় পদে বহাল আছেন।

সোমবার (৪ মে) জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

জকসুর এই ক্রীড়া সম্পাদক বলেন, “ক্যাম্পাসে আসা আমার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। কারণ ক্যাম্পাসে আসলেই ওই ঘটনার কথা মাথায় ঘুরতে থাকে।” ঘটনাটিকে দুর্বিষহ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “প্রকৃতির একটা বিচার আছে। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আমার বিচার ছেড়ে দিলাম।” এই মানসিক যন্ত্রণার কারণেই অভিভাবক হিসেবে তিনি জকসু ভিপি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে নাঈম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ‘দ্বিচারিতা’কে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, তাদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রশাসন অভিযুক্তকে সাময়িক বহিষ্কার করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। এমনকি ভিসি সংবাদ সম্মেলন করে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এই বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। কিন্তু পরদিনই ওই অভিযুক্তকে ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে নাঈম বলেন, “সাময়িক বহিষ্কারের পর কেউ যদি ক্লাস-পরীক্ষা সবই করতে পারে, তবে সেটা কেমন বহিষ্কার? এটা কি শুধু আমাদেরকে আইওয়াশ করা হলো কিনা?”

এর আগে প্রশাসনের কাছে দুই দফা দাবি জানানো হয়েছিল বলে জানান এই ছাত্রনেতা। দাবিগুলো ছিল অভিযুক্তকে স্থায়ী বহিষ্কার করা এবং ক্রীড়া সম্পাদকের বিরুদ্ধে আনা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযুক্তকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া। দাবি আদায় না হলে অবস্থান কর্মসূচিতে যাওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। নাঈমের অভিযোগ, সেই কর্মসূচি ঠেকাতেই প্রশাসন সাময়িক বহিষ্কারের নামে তাদের সাথে এমন প্রতারণা করেছে।

এ বিষয়ে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বিভ্রান্তি দূর করে বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো পদত্যাগের খবরটি পুরোপুরি সত্য নয়। জর্জিস আনোয়ার নাঈম ভিপি বরাবর একটি আবেদন জমা দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সেটি গ্রহণ বা এপ্রুভ করা হয়নি।” 

ভিপি আরও জোর দিয়ে জানান, নাঈম এখনো জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবেই বহাল আছেন। অনলাইনে ছড়ানো পদত্যাগের চূড়ান্ত খবরটিকে তিনি নিছক ‘বিভ্রান্তি’ বলে আখ্যায়িত করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ এপ্রিল জবির অষ্টম ইনডোর গেমসের ক্যারাম ফাইনালকে কেন্দ্র করে ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে চড় মারেন নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেলের পরাজিত জিএস প্রার্থী সাদিয়া সুলতানা নেলী। এরই পরিপ্রক্ষিতে রবিবার অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও সোমবার তার ভাইভা গ্রহণ করাকে কেন্দ্র করেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com