হাসনাত, জবি প্রতিনিধি
শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন।
মঙ্গলবার (৫ মে) লোকপ্রশাসন বিভাগের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। শাপলা গণহত্যা দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
উপাচার্য বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা বলতে জাতিকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাটি শুধু আবেগ বা বেদনার নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও বহন করে। তৎকালীন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে তিনি জাতির জন্য গভীর ক্ষত হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সেদিন যারা ধর্মীয় অনুভূতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন, তারা সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরার জন্য সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে শিক্ষক ও লেখক আলী হাসান উসামা ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। তিনি ওই সময়ের দাবি-দাওয়া, রাতের অভিযান এবং পরবর্তী পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর পর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়া না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এখনো পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নির্ধারণ না হওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট তথ্যের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, ঘটনাটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জকসুর ভিপি মোঃ রিয়াজুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম আরিফ। বক্তারা সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সচেতন থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
















Leave a Reply