জাবি প্রতিনিধি,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম মাস্টার্স পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার শেষেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মওলানা ভাসানী হলের নিজের আবাসিক সিট ছেড়ে দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর যথাসময়ে হল ত্যাগের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাঁর নিজের একাউন্ট থেকে এক পোস্টে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের একটি স্মৃতিময় অধ্যায়। করোনা-পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম নান্দনিক আবাসিক হল মওলানা ভাসানী হলে ওঠেন এবং সেখানেই পড়াশোনা, খেলাধুলা, ক্লাবিংসহ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিবাহিত করেন।
তিনি জানান, হলের করিডোর, খেলার মাঠ, কমনরুম, মসজিদ, ক্যান্টিন ও রিডিং রুমের প্রতিটি কোণায় তার অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে। হলের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি হল প্রাঙ্গণের পরিচিত বিড়ালগুলোর সঙ্গেও গড়ে উঠেছে আন্তরিক সম্পর্ক।
স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোমুগ্ধকর বৃষ্টি, শীতের সকালের রৌদ্রোজ্জ্বল সৌন্দর্য এবং গ্রীষ্মের বিকেলের কালবৈশাখির রূপ তিনি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছেন এই হল থেকেই। হলের প্রতিটি মুহূর্ত ও পরিবেশ তার কাছে বিশেষ নান্দনিকতার প্রতীক হয়ে থাকবে।
মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সিট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমি আমার হলের সিট ছেড়ে দিচ্ছি। শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার নিকটতম সময়ের মধ্যেই সবার উচিত হল ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ নবীনদের জন্য আবাসন সংকট নিরসনে সহায়ক হবে এবং এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি থেকে মুক্ত একটি সুস্থ ও সুষ্ঠু একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, আবাসিক হলগুলোতে নিয়মিত সিট হস্তান্তর ও সময়মতো হল ত্যাগের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে নতুন শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে এবং ক্যাম্পাসে আরও মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।
















Leave a Reply